তসলিমা হাসান
টরন্টো, ক্যানাডা
_____
আমি বৃষ্টি দেখি না, অনুভব করি
জানালা খুলে যখন চোখ রাখি বিস্তীর্ণ আকাশপানে
তখন বৃষ্টির অনর্গল ঝাপটা আমার চোখে এসে লাগে
যেন ছেলেবেলার স্কুল মাঠে খেলতে-থাকা বালকেরা
ছুঁড়ে মারছে শত শত রঙিন মার্বেল
দু-চোখে কিছু দেখতে পাই না আমি
নরম পায়ে ফিরে আসি চিরচেনা বিছানায়
বৃষ্টির মাতোয়ারা শব্দে এক কবিকে অনুভব করি
কবি বালিশে মাথা রেখে যেন হারানো দিনের কবিতা
শুনিয়ে চলে আমাকে ঘুম পাড়ানোর ছলে
কিন্তু তাকে আমি দেখতে পাই না,
কেবল কল্পনায় স্পর্শ করি।
‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এলো বান’ গানের কলিতে
শৈশবের স্মৃতিগুলো বৃষ্টির ছন্দে ছন্দে ফিরে আসে
অনুভবে আমার,
মনে পড়ে সেই গুড় মুড়ি খাওয়ার সকালগুলো
অনুভবের ছোঁয়ায় উঠোনে নেমে আসে কৈ মাছের ঢল
মনে পড়ে নদীগুলোর কেমন অস্থির হওয়ার গল্প
বাড়ির ঘাটে কদম গাছে যেন জোনাকিরা পাখা মেলে
মা তখনো রান্নাঘরে বিন্নিধানের খৈ ভেজে চলেন একমনে
বাবা বারান্দায় বসে বৃষ্টির শব্দের উচ্ছাসে হারিয়ে আনমনা হয়ে যায় ।
একবার বৃষ্টির ভোরে আমি মাঠের খোলা জমিতে পা বাড়িয়ে
অনুভব করেছি স্বর্গের সুধা, কিন্তু বৃষ্টি দেখিনি যেন
হয়তো আমার চোখের চেয়ে অন্য কোনো ইন্দ্রিয় বেশি সচল হয়ে
উঠেছিল সেই ভোরবেলায়
অনুভবে অনুভবে আমি বৃষ্টিকে যাপন করেছি সারাটি জীবন।
আমি বৃষ্টি দেখি না
দেখি খরার দুপুরে বৃষ্টির জন্য কৃষকের হাহাকার
দেখি বৃষ্টির বিকেলে পাখিরা কেমন করে প্রেমে মত্ত হয়ে ওঠে
দেখি পালতোলা নৌকাগুলো কেমন তরতর করে শরীর নিয়ে
দূরের পথে এগিয়ে যায় ধীর লয়ে
আমি সত্যি সত্যি কোনো বৃষ্টি দেখি না
আমার অনুভবে মেখে থাকে বৃষ্টির অপার সব মমতা।
আদতে আমি বৃষ্টি দেখি না।
আমি বৃষ্টি দেখতে পাই না কোনোদিন
বৃষ্টির রাতে কেবল আমার কবিকে অনুভব করি
আমার মাকে, বাবাকে, চারপাশের নিথরতাগুলোকে স্পর্শ করি কল্পনায়
বৃষ্টি হলে আমি জানালার গ্রিল পেরিয়ে দূরের আকাশকে ছুঁয়ে ফেলি
তারায় তারায় ছুটতে থাকে আমার ফেলে-আসা স্বপ্নগুলো।
লাটিমের মতো ঘুরতে থাকি আসি বৃষ্টির সকালে
দুপুরে আর সন্ধ্যেবেলায়
আমি বৃষ্টি দেখি না
কেবল টের পাই গহীনে আমার টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ।
_____
very good job; congratulations