Skip to content

দুই বাংলার সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন

শারদীয়া সংখ্যা ১৪৩২

মানব না এই শৃঙ্খলে

পূর্ণেন্দু বসু

কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ

_____

বিশ্বজোড়া এক সংকটে নিমজ্জিত আমরা। এই সংকট রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সব দিক থেকেই গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। বড় ধরণের সংকট দেখা দিয়েছে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে কেন্দ্র করে।

একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে বিশ্ব শাসনে উচ্চস্বরে চিৎকার করছেন। অন্যদিকে এক যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় মেতেছেন ক্ষমতাবান রাষ্ট্রনেতারা। যুদ্ধের হিড়িকে অস্ত্র ব্যবসার রমরমা। হবে না জেনেও আণবিক বোমা ফেলার হুমকি। রুশ-মার্কিন প্রতিযোগিতা আসলে খনিজ তেল নিয়ে।

এই প্রতিযোগিতায় ভারতকে সঙ্গী করার জন্য ত্রিশক্তি (রুশ-মার্কিন-চিন) সদা সচেষ্ট। ভারতের শাসকরা তো হাঁড়িকাঠে মাথা দিয়েই আছে। তার উপর আবার বন্ধু-বন্ধু খেলা।

বিশ্ব জুড়ে সাংস্কৃতিক ও মূল্যবোধের ক্ষয় ক্রমবর্ধমান। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে স্বৈরতন্ত্রের দাপাদাপি। নির্বাচনী গণতন্ত্র পরিণত হয়েছে জোর করে ক্ষমতা দখলের খেলায়। সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ এবং কর্তৃত্ববাদ আজ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গলা টিপে মারছে।

আমেরিকার চাপিয়ে দেওয়া শুল্ক ব্যবস্থার কাছে ভারতের মতো দেশগুলি মাথা নত করে এই জোর জবরদস্তি মেনে নিচ্ছে। কাশ্মীর ইস্যুতে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে নাক গলাচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি যুদ্ধ লাগাচ্ছেন। যুদ্ধ থামাচ্ছেন। ভারত-পাক যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব নিয়ে শেষ পর্যন্ত নোবেল পুরস্কার পাওয়ার দাবি পর্যন্ত করে বসেছেন। অথচ তাঁর মতো যুদ্ধবাজরা এরকম দাবি করতে পারেন বলে, তাঁরা একটুকুও লজ্জিত নন। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে তো চলছেই। সেই যুদ্ধ থামবার কোনও উদ্যোগ নেই। ইজরায়েল ও প্যালেস্তাইনের যুদ্ধের পরিসমাপ্তির কোনও লক্ষণই নেই। এখন কেবল অস্ত্র উৎপাদনের প্রতিযোগিতা।

গোটা বিশ্ব জলবায়ু নানা দূষণে জর্জরিত। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলি সেই দূষণের ভার বয়ে বেড়াচ্ছে। আগামী দিনে এই পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাবে মানুষের জীবন অতিষ্ঠ।

ভারতের অবস্থা আরও খারাপ। খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান-শিক্ষা-স্বাস্থ্য সব দিক দিয়ে আমাদের মাতৃভূমি ভারত অত্যন্ত পিছিয়ে রয়েছে। বিশ্বব্যাপী দারিদ্র বাড়ছে। শাসক যতই গর্ব করুক, আমাদের দেশ তার অবনতির শীর্ষ সীমায় পৌঁছে গেছে।

রাজনৈতিক দিক থেকে আরএসএস-বিজেপির শাসনে ভারতে চলছে হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের প্রবল ষড়যন্ত্র। দেশের সংবিধান মানছে না শাসকরা। হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের রাজনীতি চলছে প্রকাশ্যে। মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই শাসকদের কাছে। বিপুল জনসংখ্যার এই দেশ ভয়ানক এক গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্ব ব্যবস্থায় নয়া ফ্যাসিজম কায়েম হচ্ছে। যারা মানবাধিকার বিরোধী, সাম্য, মৈত্রী ও সৌভ্রাতৃত্বের বিরোধী। এর বিপদ ক্রমশই বাড়ছে।

ধর্ম-বর্ণ-জাতিকে হাতিয়ার করে রাজনীতি হয়ে উঠেছে সমন্বয় বিরোধী, সামাজিক সুস্থিতি বিরোধী। অন্যদিকে প্রগতিশীল শক্তির দুর্বলতা এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও যন্ত্রণাময়, আরও দীর্ঘস্থায়ী করে তুলেছে।

তবুও এখনও বহু ভালো এবং লড়াকু মানুষ বেঁচে আছেন এই পৃথিবীতে। তাই সকলকেই বিশ্বাস ও আস্থা রাখতে হবে সুস্থ মতাদর্শের উপর। আস্থা রাখতে হবে গরিব-মেহনতি সাধারণ মানুষের উপর। মানুষই পরিবর্তন আনেন। তাঁরাই শাসক পাল্টান। বর্তমান পরিস্থিতিরও পরিবর্তন হবে। মানুষই ইতিহাস তৈরি করেন, সে আমেরিকা হোক, রাশিয়া হোক কিংবা ভারতই হোক।

চাই মানুষের নবজাগরণ। নবপর্যায়ের, নব-চিন্তায় উদ্ভাসিত গণআন্দোলনই পারে নতুন পৃথিবী, শান্তি ও সাম্যের পৃথিবী গড়ে তুলতে। আসুন এই পথে অগ্রসর হই।

আওয়াজ তুলুন — ‘মানব না এই বন্ধনে, ​​​​​​মানব না এই শৃঙ্খলে।’

_____

Subscribe
Notify of
guest
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
MALA MAITRA
MALA MAITRA
6 months ago

আমার মনে হয়,মানুষ সব বোঝে।কিন্তু শক্তিশালী র সঙ্গে পেরে ওঠেনা।

আরও পড়ুন

error: Content is protected !!
1
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x