দেবাশিস সাহা
বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ
যুদ্ধ – এক
ভাত-কাপড়ের যুদ্ধ। প্রতিদিন ভোর মুখে করে বের হয়ে রাত মুখে ঘরে ফেরা। ঘাম আর রক্তের ঘর্ষণজনিত ক্রিয়াকলাপ ক্লান্ত করে। অন্তরে ফেরার ডাক। হাতছানি দেয় প্রেম।অর্থ ছাড়া প্রেম বৃথা। প্রেমহীন জীবনে অর্থ অনর্থের কারণ। ভাতার ছাড়া ভাত মেলেনা। দেখনদারির যুগ। যত দেখাবে ততই খুলবে দরোজা।
যুদ্ধ – দুই
চিরাচরিত তিনটি লড়াই। রোটি, কাপড়া আউর মকান। মাথার উপর ছাদ না থাকলে কাকের বিষ্ঠা কপালে জুটবে। রাতটা চার দেওয়াল দিয়ে ঘেরা না থাকলে যৌন ক্রীড়া হবে কেমনে? সন্তান সন্ততি না থাকলে বংশের লাঠি হবে কি করে? এখন ভোটের কথাও মাথায় এসে যায়। অর্থবল থাকলেই হয়না। লোকবল দরকার।
যুদ্ধ – তিন
ইতিহাস বলে নারী নিয়ে কম যুদ্ধ হয়নি। অনেক রক্তের বিনিময়ে উদ্ধার হয়েছে প্রেয়সী। আজকের দিনেও সেই রক্তের ধারা বহমান। নারী কারো কারো কাছে হলাহল হলেও কারো অন্তরে বিশল্যকরণী। সেই চিরায়ত প্রবাদ সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে। সংসার যুদ্ধে নারী প্রধান সেনাপতি। তাঁর খেলার কৌশলে কেউ রাজা কেউ ফকির।
যুদ্ধ – চার
কথায় আছে জমি যম। জমির জন্য কম লড়াই হয়নি। একটা মহাভারত লেখা হয়ে গেছে। জমি দখলে প্রতিদিন রক্ত ঝরছে। এলাকা দখলের লড়াই পাড়ার কুকুরের কাছে শিখেই আমি পাড়ার নেতা। যে কোনো মূল্যে নারী দখল বাড়ি দখল চলছেই। মন দখল করতে পারছি কই! আম-আদমীর মন জয় করার লড়াই বা যুদ্ধ বিরল দৃশ্য।
যুদ্ধ – পাঁচ
প্রতি মুহূর্তে সবলের পীড়নের বিরুদ্ধে দুর্বলের চলছে। ছলে বলে কৌশলে গুটিকতক ক্ষমতাধর মানুষ পীড়ন ক্রিয়া অব্যাহত রেখেছেন পরম্পরাগত ভাবে। স্বার্থপর রঙের মানুষ নিজ স্বার্থের দিকে তাকিয়ে চুপ থাকে। তারা জানেনা নগরে আগুন লাগলে দেবালয় রক্ষা পায়না। সময়ের অপেক্ষা। সময় নির্মম বিচারক।
যুদ্ধ – ছয়
ধর্ম নিয়ে যুদ্ধ। আগে হয়েছে। এখন হচ্ছে। আগামীতেও হবে। ধর্ম নিয়ে ব্যবসা বহুযুগ থেকে চলছে। মানুষের দুর্বলতা ধর্মের প্রতি। সেই সুযোগ নিচ্ছে একদল অসাধু রঙের সাধু। দাড়ি টিকির মেলবন্ধন এই যুদ্ধ টিকিয়ে রাখবে। রাজনীতি এখন সেই যুদ্ধে ঘি সরবরাহ করছে। মানুষের প্রতি পরিবারের প্রতি প্রতিবেশির প্রতি প্রেম ভালোবাসা নেই, অথচ ধর্মের মদে মত্ত।