Skip to content

দুই বাংলার সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন

শারদীয়া সংখ্যা ১৪৩২

শঙ্খমালা

ফরিদ তালুকদার

টরোন্টো, কানাডা

_____

শাল-পিয়ালের বনে বেলা ডুবে গেলে স্মৃতিরা জেগে উঠে জোনাকি দ্বীপের মতো!

জনারণ্যের দৃষ্টি এড়িয়ে আমাদের বেনামী কুশল বিনিময়, সংশয়, শিহরণ…
সব আজ পুরনো মলাটের নিচে কোনো এক পৌরাণিক উপাখ্যান, মধ্য নিশীথে মার্চপাস্ট করে যায় বুকের দ্রাঘিমা!
তোর স্বপ্ন রঙের সেই বাদামী বিকেলগুলো এখন আর কোথাও নেই শঙ্খমালা!

বহুকালের অভিমান জমা রেখে, ঠিকানা বদলে সেদিনের জোনাকিরাও আজ অন্য গ্রহের পথিক
এইসব পালাবদলের মাঝেও তোর বুকের সেই সুগন্ধি- এখনো কী ভীষণ দাপটে শাসন করে বেড়ায় সবগুলো ইন্দ্রিয়ের পাড়ায় পাড়ায়!
এক সময়ের সেই সব স্বপ্ন, ঝাঁঝালো মিছিল, বিপ্লব…
সব ভুলে বিবশ আমি পড়ে থাকি অর্ধচেতনে
রৌদ্র-ছায়ার নকসীর মাঝে রং বদলানো দু’টো গিরগিটিও এসে দাঁড়ায় তখন আত্মভোলা সেই দুপুরে!

বাস্তবতার চরম চিত্র এঁকে আমাদের কাল হারায় কালের গহ্বরে, এটাই এক জীবনের বড় সত্য এখন!

জল থেকে স্থল, পৃথিবীর চরাচরে শতসহস্র সমাজ চরিত্রের মাঝে মানুষেরটাই আজ সবচেয়ে বেশি ঘুণপোকা জর্জরিত সন্দেহ নেই
মুদ্রার কাছেই তার সব বিবেক, সব চেতনা, সব ভালোবাসার সমর্পণ, মৃত্যু
অন্যের দুঃখের পুঁজিতে আপন সুখ কেনার কৌশল রপ্ত করাই এই দ্বিপদীদের কাছে আরাধ্য শিক্ষা!
আমাদের হৃদয়গুলো সেখানে সব একেকটি পাতার বাঁশি
সুর উঠতে না উঠতেই…!

সবাই আমরা যে যার অবস্থান থেকে সঠিক গল্পের চরিত্র হ’তে চাই
অথচ এ পৃথিবী নিয়ত আমাদের ভাঙনের গল্পই শুনায়!

মাঝে মাঝে অবসন্ন বোধবুদ্ধি, চেতনাকে জাগিয়ে দিয়ে যায় একটি প্রশ্ন
আমরা কি সত্যিই ভালোবেসেছিলাম পরস্পরকে?
পৃথিবীর মানুষেরা কি কোনোদিন খুঁজে পেয়েছে প্রকৃত ভালোবাসার ঠিকানা?
নাকি সব…?

সময় পেলে তোর শহুরে গলির প্রাচীর পেরিয়ে একবার এসে আকাশ দেখিস শঙ্খমালা
অনুভব করিস কতোটা নির্ভীক করে দেয় সে মোহন টান
কেমন করে সে খুলে দেয় বুকের সবটা অর্গল!

_____

Subscribe
Notify of
guest
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়
Admin

খুবই সুন্দর লেখা। শালীনতাপূর্ণ শব্দচয়ন। 

আরও পড়ুন

error: Content is protected !!
1
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x