Skip to content

দুই বাংলার সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন

শারদীয়া সংখ্যা ১৪৩২

হাওয়া

অরিজিৎ লাহিড়ী

ভদ্রকালী, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ

একটা হাওয়া ছুটে আসে শহরের বুক চিরে,
তার পিঠে চেপে বসে থাকে কিছু কাগজে মোড়া স্বপ্ন—যাদের নাম যথাক্রমে,
রেজাল্ট, রোল নম্বর এবং অ্যাডমিট কার্ড।

তারা দৌড়োয়—
বইয়ের পাতার দিকে নয়,
প্রশ্নের গভীরেও নয়,
তাদের চোখ থাকে লাল রঙের সিল
আর সই করা চিঠিদের দিকে,
যাদের ওপরে লেখা— ‘আপনি নিযুক্ত হয়েছেন’।

শহরের প্রাচীন গাছেরা ফিসফিস করে—
‘এসব তো শিক্ষা নয়,
এসব তো চাকরি নামক চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পুজো।’

মাঠে একটা ঢেউ ওঠে—
না, ওটা নদী নয়,
ওটা হল রাশভারি ছেলেমেয়েদের মিছিল,
যাদের স্বপ্ন একটাই—
‘শিক্ষক হইব, কিন্তু পড়াইতে হইবে না।’

একটা দোয়েল পাখি উড়ে এসে বসে জানালায়,
সে জানে না কারিক্যুলাম ভিটা কী,
তবুও সে ব্যর্থ— কারণ তার ঠোঁটে নেই
রেকমেন্ডেশন লেটার।

একটা বটগাছ স্বপ্ন দেখে—
যে তার ছায়ায় একদিন বসবে একদল শিক্ষক,
যারা গল্প বলবে
মহাভারতের, নিউটনের, কিংবা বিদ্যাসাগরের।
কিন্তু বাস্তবের কলরব তাকে জাগিয়ে তোলে—
যেখানে শিক্ষক মানে এম আর পি-হীন প্রোডাক্ট,
যার দাম ঠিক করে রাজনীতি আর দালাল।

তবুও লোকে বলে—
‘শিক্ষা আলো দেয়,
তাই আমরা ছুটছি আলোর দিকে।’
আসলে তারা ছুটছে সেই বোতামটার দিকে,
যেটা টিপলেই খুলে যায় পে স্লিপের প্যান্ডোরা বক্স।

জ্ঞান?
সে তো হিন্দু পত্রিকার
এডিটোরিয়াল সেকশনে ছাপা হয়,
আর সেসব পড়ে ফ্যালে শুধু সেই লোকটা,
যার প্যানেল আদালতে ক্যানসেল হয়েছে বারবার।

এই সমাজ এক ঘুঙুরহীন নৃত্য,
যেখানে তাল নেই, তালিম নেই,
আছে শুধু চাকরি নামক ঈশ্বরের কাছে—
‘প্রভু, স্কুলের চাকরি পাইয়ে দাও’—এই অসীম প্রার্থনা।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

আরও পড়ুন

error: Content is protected !!
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x