Skip to content

দুই বাংলার সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন

শারদীয়া সংখ্যা ১৪৩২

আমরা সবাই পাঁড় মাতাল

হাসান মাহমুদ

টরন্টো, ক্যানাডা

রহিম যেটা দেখছে পানি, করিম সেটা দেখছে কালি,
প্রশংসা যার করছে যদু, মধু তাকে দিচ্ছে গালি!
তুই যেটাকে দুগ্ধ দেখিস, অন্যে সেটা দেখছে ঘোল,
এক অরূপের অজস্র রূপ, বড্ড লাগায় গণ্ডগোল!

দুই বন্ধু –
“পষ্ট এটা দেখছি হলুদ! নিজের চক্ষে দেখছি যে!
কি করে নীল বলছিস তুই? ভালো করে দ্যাখা নিজে!

জবাব –
“হলুদ এটা? বলিস কি রে?? দিব্যি দেখছি নীল ও রং!
হায় হায় হায় রং-কানা তুই ! চশমা নে রে তুই বরং।”

সবার চোখেই একেক রঙের চশমা, তা কেউ পাইনে টের,
সবাই একেক রঙের দেখি – একই মোক্ষ – এক রঙের।
দুই চশমায় মিললে মধুর – “স্লামালেকুম” “সুপ্রভাত”।
না মিললেই “ধর শালাকে”, “মার শালাকে”-র সূত্রপাত।
নিজের নিজের বিশ্বাসটাই “পরম সত্য” রূপ ধরে,
নেই পরোয়া কে হয় তাতে খুশী, কে হয় ক্ষুব্ধ রে!

আসল সত্য কোথায় থাকে, কে জানে তার হয় কি রূপ,
বিশ্বাসেরই “সত্যে” সবাই হয়ত খুশী, নয় বিরূপ।
সত্য হাসে সুদুর থেকে। হায়রে ধরার শ্রেষ্ঠ জীব!
বন্ধ বোধে, অন্ধ ক্রোধে তুই বড় নিকৃষ্ট জীব।

মাতাল ভাবে সে ঠিক আছে! দুনিয়াটাই খাচ্ছে টাল,
বিশ্বাসের-ই “সত্য” খেয়ে আমরা সবাই পাঁড় মাতাল।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

আরও পড়ুন

error: Content is protected !!
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x