ছন্দা পাল, বীরভূম
আমরা সকলেই জানি যে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ এই পার্বণ গুলির অন্যতম গ্রাম বাংলায় ব্যাপক হারে পালিত একটি উৎসব যেটি হল নবান্ন উৎসব। ‘নবান্ন’ অর্থাৎ নব অন্ন যার অর্থ হলো নতুন অন্ন বা নতুন ধান। এই কৃষিপ্রধান রাজ্যে কৃষকের ঘরে ঘরে এই উৎসব পালিত হয়। নতুন আমন ধান কাটার পর সেই ধান থেকে চাল করে সেই চাল দেবদেবীদের উদ্দেশ্যে অর্পণ করা হয়। নতুন ধানের চালের ভাত রান্না করে প্রথমে সেই ভাত দেবী বসুমতীর উদ্দেশ্যে নিবেদন করার পর সেগুলি প্রসাদ হিসাবে গ্রহণ করা হয়। এই সাথে বিভিন্ন রকমের ভাজা এবং অন্যান্য তরকারি রান্না হয়। বহু রকমের মিষ্টান্ন থাকে যেগুলি সবই ঘরে তৈরি। এক একটি গ্রাম অগ্রহায়ণের এক একটি নির্দিষ্ট দিন ঠিক করে নেয় এবং সমস্ত বাড়িতেই নবান্ন হয়, সেদিন অতিথি অভ্যাগতরা আসেন। বীরভূম, বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদে এটি ব্যাপক হারে পালিত হয়। বীরভূমের কথ্য ভাষায় এটিকে ‘লবাণ’ বলা হয়। কোথাও কোথাও আজকাল অন্নপূর্ণা পূজাও হয়, যদিও মূলতঃ এটি ক্ষেত্রদেবীর আরাধনা বলে মনে হয় যাকে পাঁচালী তে ক্ষেত্রলক্ষ্মী বলা হয়েছে। নবান্নের প্রথম দিনটিতে এগারো বা তেরো সংখ্যক বিজোড় নিরামিষ পদের সাথে কোথাও কোথাও মাছের বিভিন্ন পদ থাকে। পরের দিনটিকে ‘বাসি লবাণ’ ধরে অনেক বাড়িতে মাংস খাওয়া হয়।
‘নবান্ন’ শুধুমাত্র একটি উৎসবই নয়, এটি প্রাচুর্য ও নতুন শুরুর প্রতীক। যেখানে কৃষকেরা তাদের কঠোর পরিশ্রমের ফল উদযাপন করে এবং ভবিষ্যত শস্যের সমৃদ্ধির জন্য ক্ষেত্রদেবীর কাছে প্রার্থনা করেন।
কৃষি সভ্যতার এই গুরুত্বপূর্ণ উৎসবের নামটি বাংলা সাহিত্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ‘গণদেবতা’ উপন্যাসের পটভূমিতে নবান্ন বা নতুন ফসল তোলার উৎসবের উল্লেখ আছে। বিজন ভট্টাচার্যের এই নামের নাটকটি অত্যন্ত বিখ্যাত।