ইন্দ্রনীল সিনহা
সুইডেন
লোকটি একা বেঞ্চে বসে আছে।
বেশ কিছুক্ষণ ধরেই আছে।
সামনে প্রশস্ত রাস্তা, ফাঁকা।
ফুটপাথ, ফাঁকা
রাস্তার ধার বরাবর পর পর গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে।
এদের ভাগ্যে মাথাঢাকা গ্যারাজ জোটেনি।
রাস্তাতেই এদের শ্রম, সেখানেই এদের বিশ্রাম।
রাস্তাতেই এরা ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে থাকে, কখন তাদের মালিক এসে
চাবীরূপী ধাতব শলাকা তাদের কানে ঢুকিয়ে কান মুচড়ে শ্রমের আদেশ দেবে।
মুহূর্তের মধ্যে যান্ত্রিক হৃদপিন্ড সচল হয়ে উঠবে,
আশপাশের নিস্তব্ধতাকে চূর্ণ করে রবারের টায়ার পিচ রাস্তার বুকে নিজের মুখ ঘষে সেই আদেশ পালন করবে।
সময়টা বিকেল। আকাশে গাঢ় ধূসর মেঘমালা সিংহবিক্রমে দিনমণির আলোকচ্ছটা ঢেকে রেখেছে।
দুরন্ত বাতাস তাদের এক কোণ থেকে অন্য কোণে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে।
বসন্ত দোরগোড়ায় এসেও ঢুকতে ইতস্ততঃ করছে ,
দেখছে শীত তার বিদায়বেলাতে শেষ কামড় বসিয়ে আছে।
যেখানে বিশাল বৃক্ষরাজি তাদের পাতাহীন শুকনো ডালপালা নিয়ে এখনো শীতের বশ্যতা স্বীকার করে আছে,
মাটির সবচেয়ে কাছে থাকা অনামী রঙিন ফুলরাজি ইতিমধ্যেই শীতের বিদায় ঘন্টা বাজিয়ে দিয়েছে।