Skip to content

দুই বাংলার সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন

শারদীয়া সংখ্যা ১৪৩২

অমর-নখ্T

মহাযাত্রিক

(ধারাবাহিক কল্পবিজ্ঞান কাহিনি — প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য)

_______

পরিবেশ ও জলবায়ুর ভয়াবহ সঙ্কট, পারমাণবিক যুদ্ধ, এবং অবিশ্বাস্য অর্থনৈতিক, খাদ্য, পানীয় এবং রাজনৈতিক সঙ্কটে ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী মানবসভ্যতা ধ্বংস হয়েছে। এক নতুন “সভ্যতা” গড়ে উঠেছে, যা এখন আমাদের পক্ষে কল্পনা করা অসম্ভব। কিন্তু তাই হতে চলেছে। ভবিষ্যতের “মানবসভ্যতা” হয়তো এই।

সময়কাল — আজকের হিসেবে ২৪২৪ সাল। অর্থাৎ, চারশো বছর পরে।

_______


প্রস্তাবনা

অমর-নখ্T নামটা উচ্চারণ করা খুব সহজ নয়। অনেকেই পারে না। কিন্তু বাংলায় উচ্চারণ করতে গেলে এইভাবেই বোধহয় করতে হবে। আর কোনো উপায় নেই।

শুধু অমর বললে হবে না। কারণ ওর নাম অমর নয়। অমর-নখ্T। সেকেণ্ড বা থার্ড লেভেলের পোস্ট-হিউম্যান ছাড়া এ নাম উচ্চারণ করার ক্ষমতা আয়ত্ত করা যাবে না। এখনকার পৃথিবীর মানুষের এই নাম উচ্চারণ করার মতো জিহ্বা অথবা ভয়েস বক্স তৈরী হয়নি। আমরা যখন এই লেখা পড়ছি, আমাদের কল্পনা করে নিতে হবে আজকের পৃথিবীর গল্প এ নয়।

অমর-নখ্T — এ-এনT — একজন ফোর্থ লেভেলের পোস্ট-হিউম্যান। উৎকৃষ্টতম মানবোত্তর জীব। এই স্তরের পরে এখনো পর্যন্ত আর কোনো স্তর নেই। তারপরে শুধু কন্ট্রোল স্যাটেলাইট এবং মহাবিশ্বের নতুন নতুন উপগ্রহ কলোনি। আর মহাজাগতিক সংকেত। ব্ল্যাক হোল, ওয়র্ম হোল, হোয়াইট হোল। কোয়ান্টাম ফিজিক্স সম্পর্কে কিছুটা জ্ঞান না থাকলে এ সংকেতের পাঠোদ্ধার করা যাবে না।

ভয়েজার ১ এবং ভয়েজার ২ আশ্চর্য নতুন কিছু সংকেত পাঠাচ্ছে আজ এই দুহাজার পঁচিশ সালের খবর অনুযায়ী, যা আশ্চর্য অর্থবহ। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST) অবিশ্বাস্য কিছু তথ্য পাঠিয়েছে। প্রক্সিমা সেন্টাউরির খবর আজ অনেকেই জানে।

খবর আসছে মহাজগৎ থেকে। খবর, সংকেত আসছে অন্য গ্যালাক্সি থেকে।

সংকেত নিঃশব্দ, কিন্তু তীব্র। আর অবিশ্বাস্য শক্তিশালী। স্বপ্নের অতীত তার গতি।

আমরা যে সময়ের কথা বলছি, এখনকার হিসেবে সেই ২৪২৪ বর্ষে আলোর গতিবেগ অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু সে গতিবেগ নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়েছে। অতি বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সে গতিতে পৌঁছনোর অনুমতি দেওয়া হয় না।

প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় লেভেলের পোস্ট-হিউম্যানরা সে গতিতে পৌঁছনোর যোগ্যতা অর্জন করেনি।

*****

ইউম

পুরোনো হিসেবে আজ একুশে এপ্রিল, ২৪২৪ সাল। অমর-নখ্T ওর বাড়িতেই বার্থডে পার্টি দিয়েছে। আজ ওর চল্লিশ ইউম বয়েস হলো। তার মানে আগেকার হিসেবে ১৬০ বছর। আর চার ইউম ওকে রাখা হবে। ইউম মানে আগেকার হিসেবে চার বছর। লিপ ইয়ার নিয়ে যে সমস্যা ছিল প্রতি চার বছর অন্তর ফেব্রুয়ারি মাসে একটা অতিরিক্ত দিন যোগ করার — যা নিয়ে মানুষ কী করবে ভেবে পাচ্ছিলো না, ইউম সিস্টেম চালু করার পর থেকে সেটা আর নেই। সুতরাং এখন এক ইউম মানে হলো (৩৬৫ x ৩) + ৩৬৬ = ১৪৬১ দিন।

এক ইউম পরে আবার বন্ধুদের মুখ দেখবে ও। জেসমিঞ্চ আর আলোক্স  — ওর দীর্ঘদিনের দুই বন্ধু আসবে। টেরামায়া আর মিশুল — ওরাও আসবে। আরো আসবে গংগার, জুলিম, রীট।

গত সপ্তাহে মিশুল নতুন একটা ই-লাং পেয়েছে। ওর জন্যে একটা স্পেশাল ব্রীদিং চিপ বসানো হয়েছে — যেটা ওর বাঁ হাতের উপরের দিকে স্কিন গ্রাফটিং করা আছে। ও এখন কয়েকদিন মুখ দিয়ে কথা বলতে পারবে না, কিন্তু ওর ভাইব্রেশন ল্যাঙ্গুয়েজ এখন ওরা সবাই জানে।

মিশুল না এলে পার্টি জমে না। বিশেষ করে ওর সোভিয়েট ইউনিয়ন আমলের রাশিয়ান জোক। সেই মোটা গিন্নি লিভস্কায়ার সঙ্গে চাকর ভ্যাসিলির ঝগড়া — পুরোনো হিসেবে ১৯৬০ সালে। কিংবা সেই যে আমেরিকার দুই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আর বুশের মধ্যে বিতর্ক — কে বেশি বুদ্ধিমান তাই নিয়ে — সেও বোধহয় ২০২০ সাল হবে। ওঃ, হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যায়। গংগার তো একদিন বিষম খেয়ে জিভের একটা টেস্ট-বাড মাইক্রোচিপ গিলেই ফেললো। সে এক কাণ্ড! ভাগ্যিস মাত্র দশ হাজার পোলার দূরেই রোবোডক স্যাট স্টেশন করা ছিল কন্ট্রোল টাওয়ারের মেশ ক্লিনআপ করার জন্যে। খবর পেয়ে তারা আসে তিন মিনিটের মধ্যে। নইলে গংগার সেদিন ডিকম হয়ে যেত বোধহয়। ডিকম মানে ডিকমিশন। কাজ থেকে পার্মানেন্ট ছুটি।

পিছনের দিকে তাকালে আজ মনে হয়, সেই সময়ে মানুষ কত সহজেই একটুতেই রাগারাগি, ঝগড়া করত, আবার নিম্নস্তরের মস্তিষ্কের মানুষ নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার জন্যে চীৎকার করত, আর সকলের সামনে অন্যদের নানা উপায়ে, নানা কৌশলে অপমান করত, অসম্মান করত। যেমন হিটলার, মুসোলিনি, আরো সব রাজনৈতিক নেতা। সোশ্যাল মিডিয়ার আড়ালে থেকে বিষোদ্গার, কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি। পড়াশোনা নেই, জানার কোনো আগ্রহ নেই। নার্সিসিজম — আমিত্ব, অহং, চরম আত্মশ্লাঘা। সেই অবস্থা চলেছে দু হাজার সাতষট্টি সাল পর্যন্ত।

তারপর এল জাপান থেকে এদিকে ইন্দোনেশিয়া আর অন্যদিকে আমেরিকান সামোয়া হয়ে বিধ্বংসী সুনামি। জলের অতলে তলিয়ে গেল বিষুবরেখার দুই দিকের অনেকগুলো দেশ।

পৃথিবীর জনসংখ্যা সেই সময়ে দশ বিলিয়ন থেকে কমে গিয়ে দাঁড়ালো তিন বিলিয়নে। যাক, সে গল্প পরে বলা যাবে।

ঝগড়াঝাঁটি, মারামারি, যুদ্ধ, দাঙ্গা, সন্ত্রাস — এখনকার দিনে ওসব তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর কথা কেউ ভাবতেও পারে না। আর কারুর সে সময় নেই। সময় জিনিষটার সংজ্ঞা সম্পূর্ণ বদলে গেছে গত দুশো অথবা আড়াইশো বছরে। ইউম সিস্টেম শুরু হবার আগেই অর্থ, ধন, সম্পদ, শেয়ার মার্কেট, সোনাদানা, হীরে জহরত এসবের সর্বশেষ ডি-ভ্যালুয়েশন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক ও মহাজাগতিক চুক্তিতে।

অর্থাৎ, আজকের সভ্যতায় এসবের কোনো দাম আর নেই।

আজ এই বার্থডে পার্টির ব্যাপারটাও যেমন। এই পার্টিতে আজ আসবে কোয়ান্টাম টাইম বিশেষজ্ঞ L-জ্ব্ব, যার নামটা ফার্স্ট লেভেলরা উচ্চারণই করতে পারেনা। অমর-নখ্T ওর নিজের বায়ো-প্রোনাউন্সার কিছুক্ষণের জন্যে ধার দেবে আজকে ওদের। ফ্রী-তেই দেবে। নাহলে আড্ডা ভাল জমবে না।

এখন আর কারেন্সি নেই। ফলে ধার কথাটার সংজ্ঞা আজ অন্যরকম হয়ে গেছে।

এসব ছোটোখাটো কাজের জন্যে পুরোনো বন্ধুদের কাছ থেকে জিরো-প্রফিট ডান্সা কারেন্সি বা পয়েন্ট ক্রেডিট — কোনোটাই নিতে চায়না ও। এইসব ব্যাপারে ও এখনো সেই পুরোনো দিনের মানুষের মতোই রয়ে গেছে। বন্ধুরাই হাসে ও ফ্রীতে ওর জিনিস ব্যবহার করতে দেয় বলে। সেদিক থেকে এ-এনT একজন প্রি-ফার্স্ট লেভেল এ্যাপ্রেন্টিস। শিক্ষানবীশদের মতো সরল।

কন্ট্রোল স্যাটেলাইট — সি-স্যাট — আপত্তি করেনি।

কিন্তু একটা ব্যাপারে জিরো টলারেন্স বলবৎ আছে। দশজনের বেশি চ্যাট ক্রাউড সি-স্যাট এ্যালাও করে না। মেটা ক্লাইমেট সুরক্ষার জন্যে এই নিয়ম। এমনিতে কোনো বাধানিষেধ নেই খাওয়া বা ড্রিংকের ব্যাপারে — যতক্ষণ পর্যন্ত তা বায়ো-এথিক্সের সীমানা লঙ্ঘন না করছে। বন্ধু ও বান্ধবীরা নানারকম উপহারও আনতেই পারে, তেমন কোনো নিয়মকানুন নেই। কিন্তু লোক বেশি হলে পয়েন্ট ডাউনগ্রেডিং হয়। পেনাল্টি পয়েন্ট কেটে নিলে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই হয়তো ওকে ডিস্-এ্যাসেম্বল করে নেবে।

হয়তো রোবোডকের ওয়্যারহাউসে ফেরৎ পাঠিয়ে দেবে।

অমর-নখ্T চার ইউমই থাকতে চায়। চার ইউম অনেক সময়। টাইট্যানিয়া থেকে ক্লোন এ-এনT এক্স-টু ততদিনে এসেই যাবে।

*****

পি এইচ এস

ওর বাড়িটা ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিস্কো আর লস এঞ্জেলেসের মাঝামাঝি একটা জায়গায়। অর্থাৎ, যেখানে আগে ক্যালিফোর্নিয়া ছিল। আগেকার সাল তারিখের হিসেব পাম ফোর-ডি টিপ্সে সহজেই দেখা যায়। সেই হিসেব অনুযায়ী, ২০৯০ সালে যে ৯.৯৫ রিখটার ভূমিকম্প হয়েছিল, তাতে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া শেষ হয়ে যায়। তারপর আসে প্যাসিফিক মহাসাগরের দ্বিতীয় মেগা-সুনামি, আর একই সঙ্গে চার পাঁচটা নিউক্লিয়ার রিএক্টরে বিস্ফোরণ।

এমনিতেই উষ্ণায়ন এমন অবস্থায় পৌঁছেছিল যে লস এঞ্জেলেস তখন শুনশান। ভূপৃষ্ঠ তাপমাত্রা পঞ্চাশ বছরে ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গিয়েছিল, যা জীবনধারণের পক্ষে সম্পূর্ণ অসম্ভব। নুয়েভা মেক্সিকো আর সোনোরা মরুভূমির তাপমাত্রা কালাহারির তাপমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিলো। আর কালাহারির তাপমাত্রা জুন মাসে, অর্থাৎ তাদের শীতল সীজনে, হয়ে দাঁড়িয়েছিল ১৫০ ডিগ্ৰী ফারেনহাইট। সাউআরো ক্যাকটাস আর ব্রিসল-কোন পাইন — যা আগেকার দিনে কিছুটা জল ধরে রাখতো, সেগুলো সব শেষ হয়ে গিয়েছিলো।

তার ওপরে এসেছিলো বীটল আর বিষাক্ত মাছিবাহিত এক মহামারী। সে মাছি আবার তাদের পেটের মধ্যে বয়ে নিয়ে এসেছিলো ডিউটারমিস — যা মাইক্রোস্কোপিক ফাঙ্গাস ও বিষাক্ত লাইকেনের হাইব্রিড। দুহাজার ঊনিশের কোভিড অতিমারী তার কাছে শিশু। ডিউটারমিস অতিমারীতে উজাড় হয়ে গিয়েছিলো পঞ্চাশ কোটি মানুষ।

উত্তর আফ্রিকা সেই সময় থেকেই জনশূন্য।

২০৫০ সালের আগেই মেক্সিকো, এ্যারিজোনা, নেভাডা আর দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান ডিয়েগো আর এল.এ. পরিত্যক্ত হয়েছিল। কিছু লোক উত্তরে স্যান হোজে, সান ফ্রান্সিস্কো পালিয়ে গিয়েছিলো, আর তার পরের দশকগুলোতে সেখানেও থাকতে না পেরে আরো উত্তরে ওরেগন, সিয়াটল আর ভ্যাংকুভার এলাকায় জনবসতি গড়ে তুলেছিল। দ্রুত উষ্ণায়নে আলাস্কার একদা-বিশাল তুষারাবৃত অঞ্চল তখন ক্রমে পাইন, বার্চ, জুনিপার এসব গাছে ঢেকে গেছে। এস্কিমোরা একদা-তুষারাবৃত আলাস্কা চিরকালের মতো পরিত্যাগ করে দক্ষিণে এসে বাসা বেঁধেছে। তাদের মধ্যে ডিসপ্লেসমেন্টের কারণে সুইসাইড অসম্ভব বেড়ে গিয়েছিলো।

সে বহুকালের কথা। তখনো প্যাসিফিকে সমুদ্রতলের নতুন কলোনি জিব্রালসা তৈরী হয়নি।

এ-এনT’র ফোর্থ-লেভেল পোস্টহিউম্যান বন্ধুদের মধ্যে টেরামায়া হিস্ট্রি ওরিয়েন্টেশনের দায়িত্বে আছে। ওকে তৈরী করার পরেই বিশ্ব ডিএনএ ব্যাঙ্কে নিরাপদে রেখে দেওয়া ইথিওপিয়ার বিখ্যাত ঐতিহাসিক জিব্রালসেলাসির মেমরি জীন ওর মস্তিষ্কে আপলোড করে দেওয়া হয়েছিল। বহুমাত্রিক সংস্থা ব্রেন-ইন্ক্ আপত্তি করেনি। ২১০০ চুক্তিতে আগেকার আফ্রিকাকে নেওয়ার পর থেকেই প্রাক্তন ইথিওপিয়া, কেনিয়া, মিশর আর মরোক্কো থেকে বায়োমেড এক্সচেঞ্জ হতে শুরু করেছে। অবশ্য এসব দেশের অস্তিত্ব এখন আর নেই। বোঝার সুবিধের জন্যে আমাদের পুরোনো নামগুলো মাঝে মাঝে ব্যবহার করতেই হবে।

যেমন ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, বার্মা আর শ্রীলঙ্কা। এখন এই ভৌগোলিক এলাকার নাম ইনডিজা। দক্ষিণ বাংলাদেশ আর দক্ষিণ ওয়েস্ট বেঙ্গল ২০৯০ সালের আগেই সুনামিতে লুপ্ত হয়ে গেছে। যারা পেরেছে, তারা আগে থেকেই ব্যবস্থা করে স্যাটগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। তবে কয়েক লক্ষ মানুষ এখনো সেখানে আছে। কোথায় আছে, তা পরে বলা যাবে।

কাশ্মীর, নেপাল, তিব্বত, দিল্লি এবং হিমাচল গাড়োয়াল কুমায়ুন এলাকার ২০৭৫ সালের মহাভূমিকম্প কয়েক কোটি মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে। বাকীরা, হ্যাঁ, যারা দক্ষিণে পালাতে পেরেছিলো, তারা এবং যারা পালাতে পারে নি, তারা তাদের লুকোনো কলোনিগুলোতে আছে। সে কথা পরে বলা যাবে। এর অনেক আগেই অবশ্য ক্লাউডবার্স্টিং আর ল্যান্ডস্লাইডে গঙ্গোত্রী যমুনোত্রী থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ উত্তরাখণ্ড আর উত্তর-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ আর হিমাচল প্রদেশ ধ্বংস হয়েছিল। সেসব জায়গায় তখন আর কেউ বসবাস করত না।

প্রদেশ, রাজ্য আর রাষ্ট্রের পুরোনো সংজ্ঞাও এখন লুপ্ত। দেশ, সরকার, অর্থ, জ্বালানি, শ্রমিক ইত্যাদি যেসব ব্যাপার নিয়ে আগে মানুষে মানুষে যুদ্ধ, হিংসা, রক্তপাত এসব হত, এখন তা সুদূর অতীতের বিষয়।

নিউক্লিয়ার রিএ্যাকটরগুলো সব বহুকাল আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একশো বছর আগে, অর্থাৎ পুরোনো হিসেবে ২৩০০ সাল নাগাদ পুরোনো আমলের বিদ্যুতের ব্যবহার বন্ধ করে দিয়ে সারা পৃথিবীতে সৌরবিদ্যুৎ এবং বায়ুবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু হয়েছে — গৃহকর্ম ও অফিসের আলো বাতাস ও জ্বালানির জন্যে। স্বল্পদৈর্ঘ্যের যাতায়াত ব্যবস্থার জন্যে। আর সমুদ্র, মহাসাগরের তরঙ্গ থেকে বিপুল পরিমাণে শক্তি উৎপাদিত হয়েছে বড় বড় প্রোডাকশন এবং অন্তর্মহাকাশ উৎক্ষেপণ এবং যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার জন্যে।

এবং প্রতি ঘরে, কাজের জায়গায়, পার্কে এবং শপিং সেন্টারে  কার্বন ফুটপ্রিন্ট বাধ্যতামূলকভাবে পরিমাপের ব্যবস্থা হয়েছে। এবং প্রতিটি ব্যক্তিকে ফুটপ্রিন্ট রেমিডিয়েশনের যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়েছে, যাতে কার্বন অবশিষ্ট না থাকতে পারে।

এইরকম একটি বাড়িতে অমর-নখ্T এবং তার বন্ধুরা এখন থাকে। কিন্তু তারা হিউম্যানয়েড, বা পোস্ট-হিউম্যান। প্রকৃত অর্থে হিউম্যান তাদের বলা যায়না।

পুরোনো ফ্রান্সের প্যান্থিয়ন থেকে ভলতেয়ার, রুশো এইধরণের ঐতিহাসিক বুদ্ধিজীবীদের জীন ক্লোনিং করে টেরামায়াকে শিক্ষকতার গুণাগুণ কিছুটা দিয়েছিলো ওদের এই এলাকার কসমিক স্যাট। ফোর্থ লেভেলকে এইভাবে শ্রেষ্ঠ পোস্টহিউম্যান তৈরী করে দেওয়াটা অনেকদিন ধরেই ধরেই চলছে — এ নিয়ে এখন কেউ মাথা ঘামায় না। তারা একসঙ্গেই থাকে এক ইকো ইউনিটে, তাদের মেলামেশাও নিজেদের মধ্যেই। কিন্তু ব্যস্ততার জন্যে বেশি দেখাশোনা করা বা আড্ডা দেওয়া যায় না — এই একটা মুশকিল।

অ্যাপ্রেন্টিস বা অ্যাপ ট্রেনিং শেষ হবার পরেই ফার্স্ট, সেকেন্ড আর থার্ড লেভেলের জন্যে বাছাই করা মানবোত্তর অস্তিত্বদের জন্যে তাদের মহাজাগতিক এলাকার স্যাট ইন্সট্রাকশন পাঠিয়ে দেয় ইনফ্রা-রেড সংকেত দিয়ে। তাতে নির্দেশ দেওয়া থাকে, কাকে কী ধরণের গুণাগুণ দেওয়া হবে। পোস্ট-হিউম্যান প্রজাতির নাম এখন হোমো স্যাপিয়েন্স নয়। এদের নাম এখন পি এইচ এস — অর্থাৎ পোস্ট হোমো স্যাপিয়েন্স। পি এইচ এস ওয়ান, পি এইচ এস টু, থ্রী এবং ফোর।

বলতে গেলে সবাই এখন এ আই দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং পরিচালিত। যদিও বাইরে থেকে দেখলে তাদের আগেকার পৃথিবীর মানুষের মতোই অনেকটা মনে হতে পারে।

হোমো স্যাপিয়েন্স প্রজাতির যারা আছে, তারা আছে। কিন্তু তাদের কথা আজ নয়। পুরোনো মানুষের কথা আমরা পরে বলবো।

আজ ফোর্থ লেভেলের উচ্চতম পি এইচ এসদের মধ্যে এক প্রধান রত্ন এ-এনT — অমর-নখ্T  –তার জন্মদিন পালন করছে। তার জন্মদিন  — যেদিন তাকে সৃষ্টি করা হয়েছিল।

*****

-Xআরিক্স-

বহুকাল আগে কলকাতার এক দৈনিক সংবাদপত্রে আমেরিকান কমিক জাদুকর ম্যানড্রেক প্রকাশিত হতো। সে সময়কার এক ভবিষ্যতমুখী গল্প ছিল প্রধান চার চরিত্রকে নিয়ে — শ্বেতাঙ্গ ম্যানড্রেক ও তার বান্ধবী নার্দা, এবং কৃষ্ণাঙ্গ বন্ধু লোথার ও তার বান্ধবী কার্মা। ম্যাজিশিয়ান ম্যানড্রেক থাকতো জ্যানাডু বলে একটা অদ্ভুতদর্শন বাড়িতে। সে বাড়ির আকার অনেকটা স্ফিয়ার বা গোলকের মতো, যার উপরটা পুরোটাই কাচ দিয়ে ঢাকা। অর্থাৎ, সৌরশক্তি যাতে একশো শতাংশ সে বাড়িতে প্রবেশ করতে পারে বাধাহীনভাবে।

আমাদের এই বন্ধুরা — অমর-নখ্T, টেরামায়া, মিশুল, জেসমিঞ্চ, আলোক্স, গংগার, জুলিম, রীট এরা থাকে Xআরিক্স’এ। জ্যানাডুর সঙ্গে হয়তো কিছুটা মিল থাকতেও পারে, কিন্তু তা শুধু বাইরের গড়নে। তখনকার দিনে এই স্থাপত্য ও নির্মাণশৈলী কল্পনা করা সম্ভব ছিল না।

জ্যানাডু ছিল একজায়গায় স্থায়ী। অর্থাৎ তাকে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় যাওয়া যেত না। তার প্রয়োজনও তখনকার দিনে মানুষ উপলব্ধি করতে পারেনি। খেলার ছলে বিশাল ধনী পুরুষ ও নারী তখন এমন অনেক বাড়িঘর, অফিস বা মিউজিয়াম তৈরী করেছিল — শুধুমাত্র শখ মেটানোর জন্যে, বা নিজেদের সম্পদ ও ক্ষমতা বাইরের লোকের কাছে জাহির করার জন্যে। যেমন, আম্বানি অথবা শেখদের প্রাসাদ — মুম্বাইতে কিংবা দুবাইতে।

মানুষ অহংকারে আচ্ছন্ন ছিল। আজকের এই নতুন ২৪২৪’এর সভ্যতায় সেসব দিনের ব্যাপারস্যাপারকে হাস্যকর বলে মনে হয়। এখন এই ২৪২৪ সালে — অর্থাৎ পুরোনো হিসেব অনুযায়ী ২৪২৪ সালে — শো অফের কনসেপ্টটাই আর নেই। থেকে লাভও নেই। কারণ, হোমো স্যাপিয়েন্স প্রজাতিটার সংজ্ঞাই একেবারে বদলে গেছে অন্তত তিনশো বছর আগে থেকেই।

Xআরিক্স এমন একটা বাড়ি, যা সমুদ্রের ওপরে ভাসমান অবস্থায় থাকতে পারে, সাবমেরিনের মতো ডুবে গিয়ে কয়েক সপ্তাহ জলের অনেক নীচে সেই “টোয়েন্টি থাউজেন্ড লীগস আন্ডার দ্য সী’র ক্যাপ্টেন নিমোর নটিলাসের মতোও থাকতে পারে, আবার আগে যেখানে লস এঞ্জেলেস ছিল, সুনামিতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া সেই জায়গায় কয়েক একর জমি নিয়ে নতুন গড়ে তোলা জিরো-কার্বন-ফুটপ্রিন্ট কলোনি ভেরোনাতেও থাকতে পারে।

সব কটা নামই কিন্তু পুরোনো পৃথিবীর উচ্চারণ অনুযায়ী এখানে দিলাম। যে সময়ের কথা বলছি এই কাহিনিতে, তখন উচ্চারণের গতিপ্রকৃতি সবকিছুই আমূল বদলে গেছে। বায়োলজিক্যাল বিবর্তন এমন জায়গায় গেছে, যা পুরোনো দিনের মানুষের পক্ষে কল্পনা করা মুশকিল। অসম্ভব নয়, কিন্তু মুশকিল। যেমন ভেরোনা। বললাম বটে ভেরোনা, কিন্তু ওই ভ’এর উচ্চারণ অন্যরকম। রোবোডক এক বিশেষ চিপ প্রতিস্থাপন করেছে, যা পোস্ট-হিউম্যানদের তাদের স্তর অনুযায়ী নানা লেভেলের উচ্চারণ করতে সক্ষম। ঠিক যেমন স্তর অনুযায়ী তারা এক, দুই, তিন বা চার লেভেলের দাবার মতো একটি খেলা খেলতে পারে। সুর তুলতে পারে। হ্যাঁ, স্তরভেদ আছেই, কিন্তু তা স্থায়ী নয়। শিক্ষা, ট্রেনিং এবং মোটিভেশন কাজে লাগিয়ে তারা স্তর পরিবর্তন করে এগিয়ে যেতে পারে অনায়াসেই। সেই সুযোগ তাদের রয়েছে।

Xআরিক্স’কে বাড়ি না বলে বুদ্বুদ বলাই বোধহয় ঠিক হবে। কারণ পুরো জিনিষটাই একটা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ আকার, এবং বুদ্বুদের মতোই তা নানারকম চেহারা নিতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী তার সংকোচন ও প্রসারণ হয়। না, প্রফেসর শঙ্কুর সেই মহাজাগতিক রকেট অথবা বঙ্কুবাবুর বন্ধুর সেই হঠাৎ পৃথিবীতে এসে পড়া ব্যোমযানের মতো তা জীবন্ত নয়। Xআরিক্স’কে জীবিত বস্তু বলা যাবে না বোধহয়। কিন্তু জ্বালানি ও সৌরশক্তির প্রয়োজন এবং চাহিদা অনুযায়ী তার আকার ও আকৃতির পরিবর্তন হয়। কারণ, যখন সবাই ঘুমিয়ে আছে, অথবা বিশ্রাম করছে এবং কাজ করছে না, তখন শুধু শুধু অত বড় স্ট্রাকচার ব্যবহার করার কোনো অর্থই হয় না। তখন Xআরিক্স তার কলেবর হ্রাস করে ফেলে। যদি সে জীবিত থাকত, তাহলে হয়তো বলা যেত সে নিজেও একটু বিশ্রাম করে নিচ্ছে।

এই শক্তির অপচয় বন্ধ করার পর সীমিত রেডিও আইসোটোপের ব্যবহারও অনেক সংকুচিত হয়েছে।

ভেরোনা এলাকা ভূমিকম্পপ্রবণ বরাবরই ছিল, এখনো আছে। কিন্তু Xআরিক্স এখন একটা বিশাল ক্যামেরার ট্রাইপড স্ট্যান্ডের মতো সংকোচন ও প্রসারণশীল স্তম্ভের ওপর থাকে, এবং এর ফলে ভূমিকম্প ধরা পড়লেই নিজে থেকেই তার সঙ্গে এ্যাডজাস্ট করার জন্যে তা ওঠানামা করতে থাকে, এবং তার ফলে ভূমিকম্প হলেও তার কোনো প্রভাব বাড়ির ওপর, অথবা বাড়ির মধ্যে যারা বসবাস করছে, তাদের ওপরে পড়ে না। এখন ভেরোনার কয়েক হাজার অধিবাসী এবং Xআরিক্স এগারো পয়েন্ট পাঁচ পর্যন্ত ভূমিকম্প সহজেই সহ্য করতে পারে। তার বেশি কম্পন আসছে এ খবর রোবো ফোরকাস্টে জানতে পারলে সে এলাকার সব অধিবাসীরাই হয় সমুদ্রপৃষ্ঠে বা জলের নিচে সাবমেরিনের অস্থায়ী বাসস্থানে কয়েক মিনিটের মধ্যেই স্থানান্তরিত হয়।

তারপর, বিশেষ বিশেষ সময় ও জরুরি প্রয়োজনের জন্যে জিব্রালসা কলোনি তো আছেই।

কিন্তু এগারোর বেশি ভূকম্প গত পঁচিশ ইয়ুমে কখনো আসেনি।

*****

-বার্থডে পার্টি-

এ-এনT’র পার্টি শুরু হল ঘড়ির কাঁটায় ঠিক আটটা বেজে এগারো মিনিট একচল্লিশ সেকেণ্ডে। এই এগারো মিনিট একচল্লিশ সেকেণ্ড দেরি হয়ে গেল, কারণ কোয়ান্টাম টাইম বিশেষজ্ঞ L-জ্ব্ব Xআরিক্স’এ থাকেনা। ও যে কোথায় থাকে, তা কেউ জানে না। আর কীভাবে চলাফেরা করে, সেটাও একটু দুর্বোধ্য।

কেউ কেউ বলে, এমন কি রোবোডকের নতুন জে-অ্যাপ হোয়াইট পেপার বলেছে, L-জ্ব্ব ওয়র্ম হোল ম্যানিপুলেট করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও অনেকের মতেই তা স্রেফ গুজব। ওয়র্ম হোল ওনারশিপ এখনো কারুকে ব্যক্তিগতভাবে দেওয়া হয়নি।

ওয়র্মহোল, যাকে বাংলায় বলা হয় “কীটছিদ্র” একটি মহাজাগতিক সেতু যা মহাবিশ্বের দুটি দূরবর্তী স্থান বা এমনকি দুটি ভিন্ন সময়কে সংযুক্ত করতে পারে। এটা মহাকর্ষতত্ত্ব এবং আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতাবাদ অনুসারে একটি শর্টকাট। একটু সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া যাক। ধরা যাক, আপনি একটি কাগজের দুই প্রান্তে দুটি বিন্দু আঁকলেন। এখন কাগজটাকে ভাঁজ করে ওই দুটো বিন্দু একসাথে মিলিয়ে একটা ছিদ্র তৈরি করলে সেটাই হবে ওয়র্মহোলের ধারণাগত চিত্র। এটি আপনাকে দীর্ঘ পথ এড়িয়ে এক বিন্দু থেকে অন্য বিন্দুতে তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছাতে সাহায্য করতে পারে। ওয়র্মহোল হলো মহাবিশ্বের দুই বিন্দুর মধ্যবর্তী একটি তাত্ত্বিক টানেল, যা সময় ও স্থানকে বাঁকিয়ে দেয় এবং তা আমাদের মহাকাশ ভ্রমণ ও সময় ভ্রমণের ধারণাকে চূড়ান্তভাবে বদলে দিয়েছে।

আগের পৃথিবীতে যাকে কাল্পনিক বলা হত, আজ এই ২৪২৪ সালে তা বাস্তব। কিন্তু তার ব্যবহার অত্যন্ত সতর্কতামূলক, নিয়ন্ত্রিত, এবং সীমিত।

L-জ্ব্ব’র কাছে সময়ের সংজ্ঞাটাই এতো আলাদা যে অন্যদের সঙ্গে ও চেষ্টা করেও তাল মিলিয়ে চলতে পারেনা। এই নিয়েও বন্ধুদের মধ্যে একটু হাসাহাসি হয়, কারণ যে নিজেই টাইম কীপার, সে নিজেই দেরি করে ফেলে অনেকসময়েই।

আটটার পার্টি তাই আরম্ভ হতে একটু দেরি হয়ে গেলো। সি-স্যাট অবশ্য এসব তুচ্ছ বিষয়ে মাথা ঘামায়না। বিশেষ করে ফোর্থ লেভেলের পি এইচ এস’দের জন্যে কিছুটা আলগা দেওয়াই আছে নিয়মকানুন।

“xজুম্বা মিরামোন।” অর্থাৎ, “গ্রীটিংস, ফ্রেণ্ডস।” L-জ্ব্ব Xআরিক্স’এর ডাইনিং হলে এসেই হাসিমুখে চেঁচিয়ে উঠল।

“xজুম্বা মিরামো।” অর্থাৎ, “গ্রীটিংস, বন্ধু।” উল্লাসে উত্তর দিলো এরা। L-জ্ব্ব’কে পার্টিতে পাওয়া ভাগ্যের কথা।

অবশ্য, আগেও বলেছি উচ্চারণের বিড়ম্বনার কথা। এভাবে “xজুম্বা” বলেনি কেউ। কিন্তু এভাবে ছাড়া আর কোনোভাবে ঠিক ওদের ভাষা আমরা প্রকাশ করতে পারব না। বুঝতেও পারব না। পুরোনো হিসেবেই আমরা বলছি ২৪২৪ সাল — তাও যেমন বোঝার সুবিধের জন্যেই বলছি। আসলে, সময়, কাল, ভবিষ্যৎ, বর্তমান — সবকিছুই এখন একটা স্তরের পর অন্য একটা স্তরে স্থানান্তরিত হয়েছে।

অনেকটা যেন মানুষের ইতিহাস এ পি সিরিজে চলতে চলতে হঠাৎ একসময়ে জিপি সিরিজে গতিমুখ বদলে অনেক বেশি দ্রুত হয়ে গেছে।

অবশ্য মানুষের ইতিহাসই বা বলছি কেন? এরা তো আর ঠিক সেই অর্থে মানুষ নয়। মানবোত্তর জীব। পোস্ট হিউম্যান। পি এইচ এস। পোস্ট হোমো স্যাপিয়েন্স।

মানুষ এখনো আছে। কিন্তু তারা আছে অন্য কোথাও।

আজকে সন্ধ্যেবেলাটা একটু বেশি বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা ছিল সি-স্যাটকে। এমনিতে এপ্রিল মাসের একুশ তারিখ পৃথিবীর এই এলাকায় সাতটায় সূর্যাস্ত হয়। কিন্তু পাঁচ হাজার ডান্সা কারেন্সি দিয়ে এরা সবাই মিলে দুঘন্টার ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক রেজিস্টেন্স কিনেছে এই পার্টির জন্যে। নটায় আজকে সূর্যাস্ত হবে তাই ভেরোনাতে। এরা সবাই মিলে বারান্দার রেলিং ধরে সূর্যাস্ত দেখবে, এই পরিকল্পনা অনেক দিনের।

এসব ব্যাপারেও একটু ছেলেমানুষ রয়ে গেছে এখনো।

সূর্যাস্ত দেখার পরে খাওয়াদাওয়া আর ড্রিঙ্কস আসবে। ভেরোনার বিখ্যাত নিজে রাঁধো নিজে খাও ফুড চেন “ক্লাইমেট ক্যুইজিন শপ” —  কে কে এস — ওদের এয়ারলিফট গাড়ি পাঠাবে। সঙ্গে পাঠাবে কয়েকজন বিলাস সঙ্গী ও সঙ্গিনী।

আজকের রাতটা খুব স্পেশাল।

সি-স্যাট পারমিশন দিয়েছে একাধিক পুরুষ, নারী ও উভলিঙ্গ রোবো কম্প্যানিয়ন ব্যবহার করার।

এ পারমিশন কেবলমাত্র ট্রেনিং শেষ করা পোস্ট-হিউম্যানদের জন্যেই।

(ক্রমশঃ)

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

আরও পড়ুন

error: Content is protected !!
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x