সুশান্ত হালদার
মানিকগঞ্জ, বাংলাদেশ
ভুল গুলো শোধরে যদি আবার ফিরে আসি
ভুলে যাব বাবার হাতের বেদম প্রহার,
মায়ের বকুনি আর মাস্টারমশাইয়ের চক-ডাস্টারের পিটুনি,
আবার যদি ফিরে আসি ভুলে যাব দেবীদ্বার
যেখানে গোপন বৈঠকে ক্ষুন্ন করেছিল আমাদের বেঁচে থাকার অধিকার
গণ অভ্যুত্থানে হিহি করে হেসেছিল সিটি কর্পোরেশনের বুলডোজার,
আবার যদি ফিরে আসি ভুলে যাব অতীত ইতিহাস,
মনে থাকবে না বায়রন হোমার সক্রেটিসের মতো প্লেটো এরিস্টটল,
ভুলে যাব নবারুণ জীবনানন্দ ওয়ার্ডসওয়ার্ডের মতো শেলী কীটস রবীন্দ্রনাথ
ভুলে যাব বাহান্ন থেকে একাত্তর চব্বিশের মতো গণ অভ্যুত্থান
ভুলে যাব পলাশ শিমুল হিজলের মতো শত নাম না জানা হাজারো ফুলের বাহার,
আবার যদি ফিরে আসি ভুলে যাব সমস্ত ক্লেদ জীবনের রঙচটা স্টিকার,
ঝুলে থাকা হ্যাঙ্গারে মানুষের মতো জমাকৃত হাড়ের স্তূপাকার,
ভুলে যাব প্রেমিকার ডাগর চোখের সমুদ্র মন্থনের অধিকার
শত চিৎকারেও আর কেউ জাগাতে পারবে না হৃদয়ের পুঞ্জিভূত হাহাকার,
ভুলে যাব ঝর্ণার মতো গ্রাম্য-বধূর তারল্য হাসির উপচে পড়া দুপুর,
ভুলে যাব খৈ রঙা হাঁসের জটপাকানো পদ্ম নিবিড় পুকুর,
ভুলে যাব আদিগন্ত সবুজ, নীল-রঙ, যুবতী বাংলার রিনিঝিনি নূপুর
ভুলে যাব কবিতার মতো নদী নারী, চমকানো বুকের আহ্লাদিত রমণী
ভুলে যাব বসন্ত আগমনী, শরতের মতো আশ্বিন, কার্তিকের শিশির পৌষালী,
ভুলে যাব অস্তিত্বসঙ্কটে সেই নাজেহাল বেনারসি,
যার মায়াবী মুখে জড়ানো ছিল আমারই জন্ম-তিলক জননী জন্মভূমি!
দ্বিতীয় বৃত্তের এই কাজ সত্যিই অসাধারণ এবং মনোমুগ্ধকর। প্রধান সম্পাদক সহ এর সাথে জড়িত সহ সম্পাদিকাদ্বয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা । বিশেষ করে বাংলাদেশ প্রতিনিধিত্বকারী সাংবাদিক, কবি ফারজানা সম্পা আপাকে তার অক্লান্ত পরিশ্রম, সহযোগিতার জন্য শুভেচ্ছা সহ ভালোবাসা রইলো।