Skip to content

দুই বাংলার সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন

শারদীয়া সংখ্যা ১৪৩২

রোজা পার্কস – এক সংগ্রামী জীবনের গল্প

নিলয় বরণ সোম

কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ

[গোড়ার কথা: খুব গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ পড়ার আশা থাকলে এই লেখাটি এড়িয়ে যেতে পারেন। এই শতকের এক শ্ৰেষ্ঠ মহীয়সী নারীর জীবন একটু সহজ ভাবে বলা হয়েছে এতে ]

রোজা পার্কস নামটি বললেই অনেকে মন্টোগোমারি বাস বয়কট আন্দোলনের কথা মনে করতে পারেন। তবে, শুধু একটা দিনের, একটা প্রতিবাদের মধ্যে এই মহান নাগরিক অধিকার কর্মীর জীবনকে আবদ্ধ করা যায় না। আসলে যাঁরা প্রতিবাদী হন,অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁদের অনেককেই শৈশব থেকেই প্রতিবাদী হিসাবে দেখা যায় , রোজা পার্কসও তেমনই ছিলেন।

জন্ম ১৯৩৩ সালের ৪ঠা ফেরুয়ারি, মা লিওনা ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা , বাবা জেমস ম্যাককলি – ছুতোর। বাবা মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার পর রোজা, তাঁর ছোট ভাই ও মা চলে যান দিদিমার বাড়ি।

ছোট বেলা থেকেই শ্বেতাঙ্গ শাসিত রাজ্যটিতে কালো মানুষদের প্রতি নানা রকম অন্যায় দেখে বড় হয়ে ওঠা। স্কুলে যেতে হত হেঁটে, কারণ স্কুলবাস কৃষ্ণাঙ্গ শিশুদের নিত না। দ্য রোজা পার্কস স্টোরি নামের ছায়াছবিতে একটা দৃশ্য আছে, পার্কে পানীয় জলের আলাদা কল ছিল , সাদা ও কালো মানুষদের জন্য। রোজা ও তাঁর তিন বন্ধু চোখের সামনে দেখে, এক সাহেব, নির্দিষ্ট কল থেকে আজলা ভরে জল খেলেন; তার পর সঙ্গের কুকুরটিকেও খাওয়ালেন জল; অবশ্যই কালোদের জন্য আলাদা করে রাখা কল থেকে!

সেই সময় আমেরিকায় শ্বেতাঙ্গ ও কৃষাঙ্গদের জন্য সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নীতি ছিল পোশাকি নাম বিচ্ছিন্নকরণ (segregation)।অনেক বছর লেগেছে,অনেক ঘাম-রক্ত ঝরেছে এইসব মানবতা বিরোধী রীতি নীতি বদলাতে।

মা এবং দিদিমা অসুস্থ হয়ে পড়াতে রোজার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীকালে আবার পড়াশুনা করে এই সংগ্রামী মহিলা স্কুলের ডিগ্রি অর্জন করেন, সেটা আলাদা কথা। এক ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে চাকরি নেন তিনি, সেখানে তাঁর কর্মদক্ষতার জন্য সবাই পছন্দ করত তাঁকে।

কিন্তু পুরুষ মহিলা নির্বিশেষে বর্ণগত অপমান রোজার মত কালো মানুষদের রোজনামচা ছিল। মন্টোগোমারি, আলাবামা স্টেটের রাজধানী। আলাবামা স্টেটের নিয়ম ছিল, নির্বাচনের সময় নতুন ভোটারদের ভোট দিতে গেলে একটা পরীক্ষা পাশ করতে হত। স্রেফ পাশ করাবেন না বলে দায়িত্বপ্রাপ্ত শ্বেতাঙ্গ মহিলা ওঁকে দুবার ফেল করিয়ে দিয়েছিলেন। তৃতীয়বার পরীক্ষার ফল জানার সময় উকিল বন্ধুকে নিয়ে যাওয়ায় পাশ ঘোষণা করতে বেগড়বাই করতে পারেননি।

এই সব ছোট বড় সংগ্রামে রোজা অবশ্য স্বামী রেমন্ড পার্কসকে সবসময় পাশে পেয়েছেন। স্বামী সেলুনে চাকরি করতেন , চুল কাটার কাজ। দুজনের দেখা, পরে প্রেম, আর বিয়ে ১৯৩২ সালে। বিয়ে থেকে ১৯৭৭ সালে মৃত্যু পর্যন্ত ওঁদের ভালোবাসার বন্ধন অটুট ছিল। স্কুল ডিগ্রি অর্জন করাতেও স্বামীর যেমন উৎসাহ ছিল, ভোটের পরীক্ষার পড়া তৈরী করানেতেও তাই।

১৯৪৩ সালে রোজা কালো মানুষদের অধিকার রক্ষা ও আদায়ের আন্দোলনের জন্য স্থাপিত National Association for the Advancement of Coloured People (NAACP)-এর মন্টোগোমার শাখার সদস্য হয়ে যান। সেই সমিতির সভাপতি এডগার নিক্সনের সেক্রেটারি পদে নিযুক্ত হন তিনি। নিক্সন অবশ্য নারী স্বাধীনতায় খুব একটা বিশ্বাস করতেন না। ওঁর বক্তব্য ছিল, নারীদের আসল জায়গা রান্নাঘর। রোজা মুখের উপর ওঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন , তাহলে আমায় রেখেছেন কেন? নিক্সনের সোজাসাপ্টা জবাব ছিল, ‘আমার একজন সেক্রেটারি লাগে বলে, আর সেক্রেটারি হিসাবে তুমি খুব ভালো !’

এবার যে ঘটনাটির জন্য রোজা শিরোনামে চলে আসেন, তার সঙ্গে সম্পর্কিত ঠিক আগের ঘটনাটিতে চলে আসি। কাজের জায়গায় রোজাকে যেতে হত বাসে চেপে। সেই সময়, আমেরিকায় শ্বেতাঙ্গ ও কৃষাঙ্গদের জন্য সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নীতি ছিল,পোশাকি নাম বিচ্ছিন্নকরণ (segregation)। বাসে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা থাকবে না তা কি হয়! তখন বাসে সাদা ও কালোদের শুধু যে আলাদা বসার জায়গা ছিল তা নয়, কালোদের জন্য নিয়ম ছিল – সামনের দরজা দিয়ে উঠে , টিকিট কেটে আবার নেমে গিয়ে , পেছনের দরজা দিয়ে উঠে নির্দিষ্ট অংশের আসনে বসা।

একদিন তুমুল বৃষ্টির মধ্যে সামনের দরজা দিয়ে উঠে রোজা সরাসরি সিটে বসে পড়েন। ড্রাইভারের নজরে সেটা এড়ায় না। এসে ড্রাইভার সাহেব হুকুম করে, ‘তুমি নেমে পেছনের গেট দিয়ে ওঠো।’ প্রথমে বৃষ্টির কথা বলেন রোজা, ড্রাইভারের সম্মতি আদায় করার চেষ্টা করলেও সে বেঁকে বসে , রোজা না নামলে বাস ছাড়বে না ! কিছু সহযাত্রীও উষ্মা প্রকাশ করাতে , রোজা নেমে যান। কিন্তু পেছনের গেট দিয়ে ওঠার আগেই , তাঁকে না নিয়েই বাস ছেড়ে দেয় , বোধহয় ঔদ্ধত্যের শাস্তি হিসাবে!

এই পূর্বঘটনার বারো বছর বাদে , ১৯৫৫ সালের ১ লা ডিসেম্বরের ঘটনা। রোজা রোজকার মতোই বাসে ওঠেন। চালক ঘটনাচক্রে সেই মি: ব্লেক। নিয়ম মেনে বাসে উঠে ‘কালার্ড ‘ দের জন্য সংরক্ষিত একটা ফাঁকা আসনে রোজা বসে পড়েন। একটু বলে রাখি, ‘ রাজনৈতিক শুদ্ধতার কারণে অনেকবছর আগেই আমেরিকায় ব্ল্যাক বা নিগ্রো কথার ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়ে গেছে, অন্তত কাগজে কলমে। আফ্রিকান, এশিয়ান, মিশ্র রক্তের মানুষ সবার জন্যই কালার্ড কথাটা ব্যবহৃত হচ্ছিল বেশ কিছু বছর। সেদিন ক্রমে ক্রমে বাসে ভিড় বাড়তে থাকে, কয়েকজন শ্বেতাঙ্গ যাত্রী উঠে পড়েন, কিন্তু বসার আসন পান না। একটা অলিখিত প্রথা এরকম ছিল, অনুরোধ করলে অশ্বেতাঙ্গ যাত্রীরা উঠে সাদা মানুষদের বসার জায়গা করে দিতেন।

তিনজন কৃষাঙ্গ সহযাত্রী সিট্ ছেড়ে পেছনে চলে গেলেও রোজা অবিচল বসেই থাকেন। যথারীতি ড্রাইভার এসে হুকুম করাতে, রোজা পরিস্কার জবাব দেন , উনি নিজেদের জন্য নির্দিষ্ট আসনেই বসেছেন, সুতরাং সিট্ ছাড়ার প্রশ্ন ওঠে না। এবার ড্রাইভার আইনের বিশেষ ক্ষমতাবলে কালার্ড বোর্ডটাই এক লাইন পিছিয়ে দিয়েছিল । তিনজন কৃষাঙ্গ সহযাত্রী সিট্ ছেড়ে পেছনে চলে গেলেও রোজা অবিচল বসেই থাকেন। মি: ব্লেক রাগতঃ স্বরে ওঁকে উঠতে বললেও, শিরদাঁড়া সোজা রেখে, রোজা সিট্ ছাড়তে অস্বীকার করেন। মি: ব্লেক এবার বাস থেকে নেমে টেলিফোন বুথ থেকে পুলিশে ফোন করেন; অবিলম্বে পুলিশ এসে ” বাস চালকের আদেশ অমান্য করার” দায়ে রোজাকে গ্রেপ্তার করে। তবে বলে রাখা ভাল,রোজার আগেও দুজন এরকম প্রতিবাদ করে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, কিন্তু, NAACP-এর সক্রিয় সদস্য রোজার গ্রেপ্তারের খবর মন্টোগোমারিতে আগুনের মত ছড়িয়ে পড়ে। মি: নিক্সন তড়িঘড়ি ছুটে গেলেন জামিন আদায় করতে, ১০০ ডলারের বিনিময়ে জামিন পেলেন রোজা। রোজার পক্ষে উকিল হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন ক্লিফোর্ড ডর নামে এক শ্বেতাঙ্গ আইনজীবি, রোজার শ্বেতাঙ্গ বন্ধু ভার্জিনিয়ার স্বামী।

চরম কিছু একটা না করলে এই অন্যায় আইন বদল হবে না, NAACP -র সদস্যদের এটা বুঝতে বাকি রইল না। রাশি রাশি হ্যান্ডবিল ছড়িয়ে দেওয়া হলো, স্থানীয় চার্চে এক মিটিং বসল স্থানীয় কৃষাঙ্গ অধিবাসীদের নিয়ে – এক আবেগঘন ভাষণ দিলেন তরুণ ধর্মযাজক মার্টিন লুথার কিং। ঠিক হল, পরের সোমবার, ডিসেম্বর মাসের ৫ তারিখ থেকে শুরু হবে বাস ধর্মঘট। সেদিন থেকে সেই শহরের কোনো কালার্ড মানুষ স্কুল কলেজ, অফিস আদালত বা ব্যবসার কাজে বাসে চড়বেন না। নিজের গাড়িতে যেতে পারেন; বিশেষ উৎসাহ দেওয়া হল, পুল সিস্টেমের মাধ্যমে এক গাড়িতে যতজন সম্ভব যাওয়ার,আর যাঁদের সেই সুবিধা নেই, তাঁরা যাবেন হেঁটে। এই আন্দোলনের প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন রোজা পার্ক , শুরু হয় ঐতিহাসিক মন্টোগোমারি বাস বয়কট আন্দোলন।

এই বৈষম্যবাদী পরিবহন আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটা আলাদা ফ্রন্ট গঠন করা হল – মন্টোগোমারি ইমপ্রুভমেন্ট এসোসিয়েশন (MIA) – ১ লা ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ সালে। রোজা পার্কসের আইনজীবি ক্লিফোর্ড ডরের ভয় ছিল, নিম্ন আদালতে রোজার মামলা হয়ত ঘুরতেই থাকবে। এই জন্য উনি এবং অন্যান্য আন্দোলনকারীরা সরাসরি ফেডারেল কোর্টে যাওয়ার উপায় খুঁজছিলেন। সেই জন্য, নিম্ন আদালতে একই অপরাধে দন্ডপ্রাপ্ত কিশোরী, ক্লডেট কলভিনের মামলা পুনর্বিবেচনার জন্য মন্টোগোমারি ইমপ্রুভমেন্ট এসোসিয়েশন, মামলাকারী গৃহবধূ ব্রাউডারের মাধ্যমে ফেডারেল কোর্টে যান। গেল্ ছিলেন মন্টোগোমারি শহরের মেয়র। ব্রাউডার বনাম গেল্ মামলায় আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট মন্টোগোমারি সিটি কোড আইনটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। অনেকদিনের, অনেক কষ্টের মধ্যে দিয়ে আপাতদৃষ্টিতে অত্যন্ত সাধারণ এবং ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় আলাবামা স্টেটে। সমাপ্ত হয় ৩৮১ দিনের বাস বয়কট আন্দোলন ।

বাস বয়কট আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ব্যক্তিগত জীবনে বিপর্যয়ের সম্মুখীনও হতে হয় নিঃসন্তান এই দম্পতিকে।ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে রোজার চাকরি গেল, স্বামী রেমন্ডও কাজ হারালেন। সে সময় ছোটভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীর উদ্যোগে ওরা পাড়ি দেন ডেট্রয়েটে। সেখানে সমানাধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকে রোজা,ডেমোক্রেট সেনেটর জন কোনের্সের সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করেন।

এরপর সারা জীবন রোজা পার্কস যেখানেই অন্যায় দেখেছেন ,সারা জীবন তার মোকাবিলায় এগিয়ে এসেছেন। স্থানীয় বাসস্থান সমস্যা থেকে শুরু করে দক্ষিন আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্য বিরোধী সংগ্রামের প্রতি প্রতিটি নিপীড়ণের বিরুদ্ধে ওঁর স্বাভাবিক ও সোৎসাহ সমর্থন ছিল।

স্বাভাবিকভাবেই এই অনন্যসাধারণ সংগ্রামী সারা জীবন অনেক সম্মান পেয়েছেন, অজস্র পুরস্কার ও সাম্মানিক ডক্টরেটেও ভূষিত হয়েছেন। তাছাড়া, ঐতিহাসিক বাস বয়কটকে কেন্দ্র করে রোজা পার্কস লাইব্রেরি ও মিউজিয়াম অনেকের কাছেই এক তীর্থক্ষেত্র হিসেবে গণ্য হয়। তবে কিছু কথা একটু আলাদা করে বলতেই হয়। ১৯৯৬ সালে আমেরিকার তখনকার রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিনটন রোজা পার্কসকে সে দেশের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান – প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম – দিয়ে সম্মানিত করেন। আরেকটা বলার মত কথা হল, রোজার আন্দোলন ছিল অন্যায্য ব্যবস্থার বিরুদ্ধে, ব্যক্তি মানুষের বিরুদ্ধে নয়। তাই, ওঁর প্রতি দুর্ব্যবহারকারী গাড়ি চালক ব্লেকের মৃত্যসংবাদ শুনে উনি বলতে পেরেছিলেন, ওঁর প্রিয়জনরা নিশ্চয়ই ওঁকে মিস করবেন।

১৯৯২ সালে অল্পবয়সীদের জন্য উনি The Story of Rosa Parks নামে একটি বই লেখেন। স্মৃতিকথা ও ভাবনা নির্ভর বই, Quiet Strength প্রকাশ করেন কিছু বছর পরে। ২৪ অক্টোবর , ২০০৫ সালে রোজা পার্ক বার্ধক্যজনিত কারণে চিরঘুমের দেশে চলে যান। ওঁর স্মরণসভায় যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন গৃহসচিব কন্ডোলিজা রাইস বলেছিলেন, রোজা পার্ক না থাকলে ওঁর হয়ত সেক্রেটারি অব স্টেট্ হওয়া হত না।

নিজের ডায়রিতে বহুকাল আগে লেখা রোজা পার্কসের সম্পর্কে লেখাটা একটু সহজ ভাষায় করে নিয়ে,নাতনি লিপি আর নাতি মিতুলকে পড়ে শোনাচ্ছিলেন শিশিরবাবু। বই পড়ার ধৈর্য্য না থাকলেও গল্প শুনতে ভালবাসে ওরা। লিপি দুজনের মধ্যে বড়। ও বলল, ‘যদিও এত কিছু জানতাম না, আমাদের স্কুলের লিটারারি ক্লাবে কেউ একজন বাসের গল্পটা বলেছিল। কিন্তু সেই দাদা বলেছিল , সেদিন রোজা খুব ক্লান্ত ছিলেন, তাই সিট্ ছেড়ে ওঠেন নি!’ শিশিরবাবু বললেন ,’ঠিক এই কথাটাই রোজা তার মাই স্টোরি বইতে লিখেছেন, এই চালু গল্পটা ভুল – উনি সেদিন প্রতিবাদ করবেন বলেই স্থির করে রেখেছিলেন, ক্লান্ত যদি থেকে থাকেন, তবে ক্লান্তি এসেছিল এই অন্যায় আইন দেখে।’ মিতুল বললো , ‘তুমি বললে ওর উপর সিনেমাও আছে, সেটা দেখতে পারব?’ শিশিরবাবু বললেন, ‘সে পারো, তবে ইউ টিউবে ভালো ভিডিও আছে – তোমরা তো তাতেই অভ্যস্ত বেশি, সেগুলোও দেখে নিতে পারো – তবে আমাকে একবার দেখিয়ে নিও, আমি ভালো গুলো বেছে দেব।’

লিপি মিতুল রাজি হয়ে হাসতে হাসতে চলে যেতেই শিশিরবাবু আবার তার পুরোনো ডায়েরি নিয়ে পড়লেন – আরো যে কত রত্ন আছে এতে, নাতি নাতনিদের শোনাতে হবে মাঝে মাঝে !

পাদটিকা:

  1. ৫ ই জুন , ১৯৫৬ সালে Browder vs Gayle মামলায় সুপ্রিম কোর্ট, সেগ্রিগেশন আইন, আরো বিশেষ করে , আইনের ১১ ধারা সম্পর্কে এই ঐতিহাসিক রায় দেন :

“The enforced segregation of black and white passengers on motor buses operating in the city of Montogomery violates the constitution and the laws of the United States, because the conditions deprived people of equal protection under the 14th amendment of the constitution.”

  1. ক্লডেট কলভিন এবং রোজা পার্কসের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযোগ ছিল: “Refusing to obey order of the driver.”

তথ্যসূত্র :

1 উইকিপিডিয়া

2 Rosa Parks Story, Sitting for Justice ও অন্যান্য ইউ টিউব ভিডিও

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

আরও পড়ুন

error: Content is protected !!
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x