মোহাম্মদ আল্লারাখা
কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ
আমরা নাচছি, গাইছি
কবিতা পাঠ করছি।
সমাজ ও সাহিত্য নিয়ে মনোজ্ঞ গুরুগম্ভীর আলোচনা করছি।
সাহিত্য ও কবিতায় জ্ঞানতত্ত্ব, মেটাফিজিক্স, মেটাফোর, ছন্দ, উপমা অনুপ্রাস, মর্ডানিজমের সার্বিক তত্ত্ব, শব্দ বাক্যের কাব্যিক ও নান্দনিক সুপ্রয়োগ নিয়ে গভীর চিন্তা ভাবনা করছি।
সাধু সাধু! কী মধুর তাই না?
প্রতিনিয়ত ওরা বিদ্বেষ ছড়িয়ে ছড়িয়ে দেশটাকে বিষাক্ত করে তুলছে।
শুধুই সাম্প্রদায়িক কারণে বিনা দোষে সাধারণ কিশোর থেকে বৃদ্ধদের ধরে ধরে হেনেস্থা করছে, জোরজবরদস্তি ধর্মীয় শ্লোগান দেওয়াচ্ছে, খুন জখম হত্যা করছে। দাঙ্গা করছে। ধর্ষণ করছে।
ঘরবাড়ি, প্রার্থনালয় ভাঙছে, একমাসের শিশুকে পদপিষ্ট করছে, স্কুলের শিশুকে শিক্ষিকা অন্য শিক্ষার্থীদের দিয়ে চড় থাপ্পড় মারাচ্ছে।
আইন আদালত বিচারে কিছু হচ্ছে না।
কেউ কিছু করছে না। চলছে তো চলছেই।
আমরা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছি আর দেখছি।
সাধু সাধু! কী মধুর তাই না?
অধিকার কেড়ে নেবার আইনের পর আইন হচ্ছে। নেতারা আইনবহির্ভূত উস্কানি দিচ্ছে, অত্যাচারে মদত দিচ্ছে। নেতা সাংবাদিক মিডিয়া মিথ্যা খবর ছড়াতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। জাতিগত ফোবিয়া ছড়াচ্ছে। দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িকতা ও একদেশদর্শিতার চরম অন্ধ পক্ষপাতিত্বের রজ্জুতে আমরা আজ আবদ্ধ!
আমরা জনসাধারণ দেখছি, শুনছি। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর। কারও কোনো হেলদোল নাই। আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আমাদের বিনোদন হচ্ছে।
আমাদের শরীরের রক্ত জল হয়ে গেছে। আমাদের মেরুদণ্ড কচুর ডাটা হয়েছে। আমরা সবাই কবন্ধ হয়েছি।
আমরা সব দেখছি শুনছি। সাহিত্য আলোচনা করছি, কবিতা পাঠ গান শুনছি। কখনো কখনো বিদেশের নিষ্ঠুরতা হিংস্রতায় উৎসাহিত ও নিজেদের উন্নীত করছি, শিখছি। অমানবিকতা ও মিথ্যার চর্চায় নিজেদের ভাসিয়ে দিয়েছি।
হাততালি দিচ্ছি। কতই না আমোদিত হচ্ছি। খাচ্ছি, দাচ্ছি ঘুমাচ্ছি। কনসেন্ট্রেসন ক্যাম্পের দিকে নির্বিঘ্নেই এগোচ্ছি।
আমরা নাকি নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, ভগৎ সিং, ক্ষুদিরাম বসু, কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উত্তরাধিকারী!
সাধু সাধু! কী মধুর তাই না?
আহা কী মধুর তাই না?