তনয় বোস, নিউ জার্সি, আমেরিকা
বিগ ব্রাদার ইজ ওয়াচিং ইউ
জর্জ অরওয়েল তাঁর ‘১৯৮৪’ উপন্যাসে দেখিয়েছিলেন যে সম্পূর্ণ নজরদারির আওতায় থাকা একটি রাষ্ট্র বা যাকে ইংরেজিতে সার্ভেলেন্স স্টেট বলা হয় তার স্বরূপ কী হতে পারে। কীভাবে সমাজের প্রতিটি জনগণের দৈনন্দিন জীবন, তাদের মানসিক চিন্তা, পছন্দ, অপছন্দ – এই সব কিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নজরদারি করে রাষ্ট্র সেই চিন্তাভাবনা জীবনযাত্রাকে নিজেদের ফায়দায়, নিজেদের ক্ষমতা সুরক্ষিত রাখতে ব্যবহার করে। মনে রাখতে হবে ১৯৪৮-৪৯ সালে অরওয়েল যখন এই উপন্যাস লিখছেন তখনও মোবাইল ফোনেরই উদ্ভব হয়নি। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে তাঁকে সত্যিই অসীম দূরদর্শী বলে মনে হয়।
ডেটা সায়েন্সের বিবর্তন
আজকের পৃথিবীতে সবচেয়ে দুর্মূল্য সম্পদ হল ডেটা। মনে করা হয় ডেটা যার দুনিয়া তার। আজকের দিনের এই পরিস্থিতি বিচার করতে গেলে আমাদের একটু এর ইতিহাসটা জেনে নিতে হবে। ডেটা বা তথ্যে বিবর্তনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস । বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে বৈজ্ঞানিক ভাবে তথ্যের বিশ্লেষণের গবেষণা শুরু হয়। ডেটাবেস ম্যানেজমেন্টের প্রাথমিক থিওরিটিকাল মডেল তৈরী হয় ১৯৭০ সালে যার নাম RDBMS (Relational Database Management System)। তার কিছু বছর পরে IBM এর রিসার্চাররা তৈরী করেন SEQUEL(Structured English Query Language), যা পরে SQL(Structured Query Language) নামে পরিচিত হয়। ডেটা সায়েন্সের মেরুদন্ড হল এই RDBMS এবং SQL। ১৯৯০ এর দশক থেকে জনপ্রিয় হতে থাকে ডেটা সায়েন্স। বড় বড় স্ট্যাটিস্টিকাল কনফারেন্সে আলোচনা শুরু হয় ডেটা সায়েন্স নিয়ে। এই সময় আসে ডেটা মাইনিংয়ের ধারণা। যেখানে বিভিন্ন সমাধান পদ্ধতি ব্যবহার করে বড় ডেটাবেসে বিভিন্ন ডেটার ছাঁচ বা যাকে বলে প্যাটার্ণ নির্ধারণের চেষ্টা শুরু হয়। একুশ শতকের একেবারে গোড়ার পর্যায়ে আসে বিগ ডেটার যুগ। বিগ ডেটা বা বিপুল তথ্যকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং সেই তথ্যকে কীভাবে বিচার এবং বিশ্লেষণ করা যায় তার যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটে ২০০৬ সাল নাগাদ হাডুপ (Hadoop) আবির্ভাবের সাথে। একবিংশ শতকের দ্বিতীয় দশকে বিগ ডেটা এবং মেশিন লার্নিংকে একত্রে ব্যবহার করে ভবিষ্যত অনুমানের কাজে বা যাকে বলে প্রেডিক্টিভ মডেলিংয়ের কাজ জনপ্রিয়তা লাভ করে। এই প্রেডিক্টিভ মডেলিংয়ের হাত ধরে জনপ্রিয় হয় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ততটাই বুদ্ধিমান হবে যত ডেটা এর কাছে থাকবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় – আপনার চারটি পছন্দের ফলের ডেটা যদি এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে থাকে তাহলে পঞ্চম ফলটি আপনার পছন্দ হবে কিনা সে যত সহজে অনুমান করতে পারবে, আপনার দশটি পছন্দের ফলের ডেটা থাকলে সে আপনার একাদশতম ফলটি পছন্দ হবে কিনা আরও সুনির্দিষ্ট ভাবে অনুমান করতে পারবে। আর বাস্তবিক জীবনে এই ডেটার পরিমাণ কোটি কোটি। সুতরাং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কতটা শক্তিশালী হতে পারে সেটা আন্দাজ নিশ্চয় করতে পারছেন।
সংক্ষিপ্ত ইতিহাস আমাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিত্তি এবং তার বিবর্তনের সময়কাল যেমন বুঝতে সাহায্য করে, তেমনই সেই বিবর্তন রাষ্ট্রশক্তি এবং কর্পোরেট পুঁজির দ্বারা কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে সেই সংযোগ বুঝতেও সাহায্য করে। যা আমাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ বুঝতে কাজে লাগে।

নব্য উদারবাদ ও ডেটা সায়েন্স
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ক্যাপিটালিস্ট দুনিয়ায় যে কেনেসিয়ান অর্থনীতি চালু হয়েছিল, তাতে শিক্ষা স্বাস্থ্যের মতন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকারি অর্থের বরাত বেড়েছিল, যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হল ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেল্থ সার্ভিস। কেনেসিয়ান অর্থনীতি ধনতান্ত্রিক দুনিয়াকে বিশের দশকের অর্থনৈতিক গ্রেট ডিপ্রেশন থেকে উদ্ধার করতে সাহায্য করেছিল। কিন্তু গত শতাব্দীর সাতএর দশকে এসে এই অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থবিরতার জন্ম দেয়। মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্ব, দুই-ই তীব্র আকার ধারণ করে। এই সময় মিল্টন ফ্রিডম্যান নিয়ে আসেন নিওলিবেরাল বা নব্য-উদারবাদী অর্থনীতি। ফ্রিডম্যান নোবেল পুরস্কার পান ১৯৭৬ সালে। আর এই অর্থনীতির অশ্বমেধের ঘোড়া ছুটতে শুরু করে আট এর দশকের একদম শুরু থেকে রোনাল্ড রেগান ও মার্গারেট থ্যাচারের সৌজন্যে। আগেই বলেছি, এই আট এর দশকের গোড়ার দিকেই SQL এবং RDBMS এর সৌজন্যে ডেটা সায়েন্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়ে গেছে।
নব্য উদারবাদের মূল চালিকাশক্তি হল মুক্ত বাজারের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা এবং তাতে রাষ্ট্রের ন্যূনতম হস্তক্ষেপ। এই ব্যবস্থাকে টিঁকিয়ে রাখতে হলে, লাভের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়াতে গেলে পুঁজিপতিদের তথ্য নির্ভর সিদ্ধান্তের উপর বেশি করে নির্ভরশীল হতে হবে। সুতরাং যার কাছে যত তথ্য, সে তার ব্যবসাকে তত উন্নত করতে পারবে। সেই চাহিদা থেকে তথ্যের পণ্যায়ন করা হলো। তথ্য আসলে জ্ঞান। অর্থাৎ জ্ঞানের পণ্যায়ন – কমোডিফিকেশন অফ নলেজ। ফলাফল – অবৈতনিক শিক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়া, শিক্ষার মূল্যবৃদ্ধি। বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রাইভেটাইজেশন। গবেষণায় বিনিয়োগ করা অর্থ গবেষণার কার্যকারিতার সাফল্যের চাইতে বিনিয়োগের প্রতিদান বা রিটার্ন অফ ইনভেস্টমেন্টের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যায়। সেই প্রতিদান সর্বোত্তম হয় যখন সঠিক ক্রেতার কাছে সঠিক বিজ্ঞাপণ পৌঁছে দিয়ে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়। যার ফলে প্রাইভেট কোম্পানিগুলো ক্রেতার পছন্দ অপছন্দ বুঝতে এবং সেই অনুযায়ী নিজেদের ব্যবসায়িক প্রোডাক্ট ও তার বিজ্ঞাপণের দিক নির্ধারণের জন্য ডেটা সায়েন্সের গবেষণায় বিনিয়োগ শুরু করে। ডেটা সায়েন্স যত উন্নত হয়, পুঁজিপতিদের মুনাফা তত বাড়তে থাকে। ডেটা সায়েন্স এবং অবশেষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যত সক্ষম হয়, তার প্রভাব পড়তে থাকে শ্রমবাজারে। বাড়তে থাকে ছাঁটাই । ডেটা সায়েন্সের প্রভাব পড়তে থাকে নব্য-উদারবাদী বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সরকারের পলিসি নির্ধারণে। আদর্শবাদী জনকল্যাণমূলক পলিসির জায়গায় দারিদ্র্য দূরীকরণে, বেকারত্বের মোকাবিলায়, মূল্যবৃদ্ধির মোকাবিলায় এইসব সরকারকে দেখা যায় তথ্য নির্ভর বিনিয়োগের প্রতিদান লক্ষ্য নিয়ে পলিসি নির্ধারণ করতে, যা আয়ের বৈষম্য আরও বাড়িয়ে তোলে সমাজে।
তথ্য কেন্দ্রীকরণ
গত শতাব্দীর নয়এর দশকের শেষ দিক থেকে বাজারে হঠাৎ করে বড় বড় কোম্পানিগুলোর মার্জার-টেকওভার বা একীভূতকরণ- অধিগ্রহণ অনেক বেড়ে যায়। তার কারণ ডেটা। বা বলা যায় ডেটার কেন্দ্রীকরণ। আজ ৪টে কোম্পানির হাতে যদি সমাজের ১০০ জনের ডেটা বিভক্ত থাকে তাহলে প্রত্যেক কোম্পানির হতে ২৫ জনের ডেটা থাকে; কিন্তু সেই ৪টে কোম্পানি যদি একীকরণ-অধিগ্রহণের ফলে ২টি কোম্পানি তে পরিণত হয় তখন প্রত্যেক কোম্পানির হাতে ৫০ জনের ডেটা থাকবে। এ বিষয়ে বিশেষ লক্ষ্যণীয় ব্যাঙ্কিং ও টেলেকম সেক্টর। তার কারণ ব্যাঙ্কের কাছে টাকা আর টেলেকমের কাছে তথ্য। মনে করে দেখুন সিন্ডিকেট ব্যাঙ্ক-কানাড়া ব্যাঙ্ক, এলাহাবাদ ব্যাঙ্ক-ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক, ভোডাফোন-আইডিয়া, এয়ারটেল-টেলেনর, টাটা টেলিসার্ভিস- ভারতী এয়ারটেল ইত্যাদি। মোবাইল ফোন পরবর্তীতে স্মার্টফোন আপনার আমার সবার যাবতীয় তথ্য ভান্ডারকে টেলিকম কোম্পানির সার্ভারে পূর্ণ যত্ন সহকারে লালিত করছে। আগেই বলেছি তথ্যের পণ্যায়ন, অর্থাৎ টেলিকম কোম্পানির সার্ভারে লালিত আপনার পছন্দের গান, আপনার পছন্দের ঝান্ডা, আপনার পছন্দের ঘড়ি, আপনার পছন্দের খাদ্য সব কিছুই বিক্রয় যোগ্য পণ্য। আপনার যাবতীয় ক্লিক, যাবতীয় ভিউ, যাবতীয় লাইক, যাবতীয় কমেন্ট, যা ফেসবুক বা এয়ারটেল বা রিলায়েন্সের কাছে সেভ করা রয়েছে তা ব্যবহার করা হচ্ছে এই সব কোম্পানির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আরও উন্নত করতে। সেই উন্নত বুদ্ধিমত্তা এমনকি সারাদিন আপনাকে শুনছে আপনার ফোনের মাধ্যমে। আপনার গলার স্বর শুনে আপনি কে সেটা বলে দিতে পারবে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নজরদারি
ছোটো একটা গল্প বলি। হয়তো অনেকের সাথেই এরকম হয়েছে। অনেকে একটু আশ্চর্য্য হয়েছেন অনেকে খেয়াল করেননি। প্রথম গল্পটি আমার এক বন্ধুর। তার ও তার স্ত্রীর মধ্যে একদিন সন্ধ্যায় সামান্য মতানৈক্য তর্কাতর্কি ঝগড়া হয়। খুব স্বাভাবিক ঘটনা। অস্বাভাবিক ঘটনাটি ঘটে পরের দিন। হঠাৎই তারা স্বামী -স্ত্রী দুজনেই লক্ষ্য করে তাদের ফেসবুকে ডিভোর্স লইয়ারের বিজ্ঞাপন আসছে, অথচ এরা কোথাও কোনোরকম সার্চ বা ক্লিক বা লাইক বা ভিডিও দেখা কিছুই করেনি। এমনকি তাদের ঝগড়ার সময়েও ডিভোর্স উচ্চারণ করেনি। এখানেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং তাদের ফোনের মাধ্যমে সর্বক্ষণ সার্ভেলেন্স। তাদের ঝগড়া ফোনের অডিও তে রেকর্ড হয়েছে। সেই রেকর্ড ফেসবুকের সার্ভারে পৌঁছেছে। এরপর ফেসবুকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই বাংলা ঝগড়ার অডিও শুনে বুঝেছে এটা স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া। সে বিচার করেছে যে এই যুগলটি ডিভোর্স লইয়ারের বিজ্ঞাপণের সম্ভাব্য ক্রেতা। নির্দিষ্ট ক্রেতার কাছে নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপণ – আগেই বলেছি। এখন যে কেউ বলতেই পারে যে সারাদিনে ফোন পাশে রেখে কতজনের সাথে কত কথাই তো বলা হয়, সব কিছুর জন্য তো বিজ্ঞাপণ আসে না। ঠিকই, আসে না। তার একটা কারণ যদি হয় আপনার ফোনের সেটিংস এবং আপনার কাছে থাকা ইলেকট্রনিক গ্যাজেটের (যেমন অ্যালেক্সা) ওপর তবে অন্য কারণটাও এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা । আপনার বয়স, আপনার পছন্দ-অপছন্দ, মানসিকতা, কথা বলার ভঙ্গি, শব্দচয়ন এসব কিছুই বিবেচনা করে এআই আপনাকে নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপণ পাঠায়। ভাববেননা এআই শুধুই রোবট, এখানেই সে বুদ্ধিমানও। তবে এরকম গল্প কান পাতলেই আজকাল শোনা যায়।
সোশ্যাল মিডিয়া
আপনি যদি সময়কালটা আরেকবার ফিরে তাকান, দেখতে পাবেন ডেটা সায়েন্সের বিবর্তন ও ফল স্বরূপ এআইয়ের আবির্ভাব এবং নব্যউদারবাদী অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক হিসাবে অগ্রগতি লাভ করেছে। এই প্রভাব যথারীতি শুধুমাত্র অর্থনীতিকে ছাপিয়ে সমাজ এবং রাজনীতিতেও দেখা যায়। যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার কেলেঙ্কারি । কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা একটি রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্স্থা (প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাকের মতন)। ফেসবুক এদের কাছে নিজেদের সমস্ত গ্রাহকের ডেটা বিক্রি করে দেয়। এই সংস্থা বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হয়ে বিভিন্ন ভোটে সেই ডেটা ব্যবহার করে ভোট জয়ে ব্যবহার করে যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ২০১৬ এ ট্রাম্পের নির্বাচন এবং ২০১০ এর ত্রিনিদাদের নির্বাচন। এই কেলেঙ্কারি এক ভয়াবহ তথ্য ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে আসে। সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে খুব নির্দিষ্টভাবে আপনাকে ব্রেনওয়াশ করার পদ্ধতি সামনে আসে। ২০১৮ সালে এই কেলেঙ্কারি যখন ফাঁস হয় তখনও এআই আজকের মতন শক্তিশালী হয়নি। এবার ভাবুন আজকের দিনে এই ঘটনার প্রভাব কতটা মারাত্মক হতে পারে। রাষ্ট্রযন্ত্র আপনার স্বর, আপনার পছন্দ-অপছন্দ, মানসিকতা, দৈনন্দিন অভ্যাস, আপনার গতিবিধি সব কিছু সম্পর্কে যে কোন মুহূর্তে ওয়াকিবহাল । সেই তথ্যকে কাজে লাগিয়ে সে যে কোনো মুহূর্তে আপনাকে হয় ব্রেনওয়াশ অথবা নিকেশ করতে পারে আপনার অজান্তেই। আপনার গুরুত্ব ততটাই যতটা বাজারের কাছে আপনার প্রয়োজন।
ভবিষ্যতের সংগ্রাম
এআই বাজারে এসেছে নব্য-উদারবাদের প্রয়োজনে। নব্য উদারবাদের বিজয়রথ প্রথম থমকেছিল ২০০৮ এর অর্থনৈতিক সঙ্কটে। এআই বাজারকে ভবিষ্যতেরএমন সঙ্কট থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্যই এসেছে।তবে শুধু অর্থনৈতিক সঙ্কট নয়, অকুপাই ওয়াল স্ট্রীটের মতন নব্য উদারবাদের বিরোধী স্বরকে গুঁড়িয়ে দিতেও বাজার এআইকে ব্যবহার করবে। এআইকে এই মুহূর্তে আটকানোর কোনো উপায় সাধারণ মানুষের নেই। যেটা আছে সেটা হল এআইকে কোন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে তার দিক নির্দেশনার। তা গুটিকয়েক বিলিয়নেয়ার এবং কর্পোরেট মালিকদের সুবিধার জন্য ব্যবহার হবে নাকি খেটে খাওয়া মানুষের সুবিধার জন্য ব্যবহার হবে। মানুষের কাজ হবে দেশে দেশে এই নব্য উদারপন্থী বাজারের লেজুড় সরকারদের উৎখাত করে খেটে খাওয়া মানুষের সরকারকে নির্বাচিত করা, যারা এআইয়ের লাগাম টেনে ধরবে। এ কাজ বড় শক্ত। কারণ চূড়ান্ত নজরদারি ।
বিগ ব্রাদার ইজ ওয়াচিং ইউ।