Skip to content

দুই বাংলার সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন

শারদীয়া সংখ্যা ১৪৩২

রক্তপ্রসাদ

তৌহিদ শাকীল

ঢাকা, বাংলাদেশ

আদৌ কি দিতে পারো প্রমাণ?

তোমরা বলো,
এইটুকু ছুরির ঘা, ঈশ্বর চান।

তোমরা শেখাও, আজব শক্তি!
রক্ত মানেই পবিত্রতা, নতুন প্রাণ,
বলি মানেই ভক্তি।

কিন্তু কে বলেছে মানবতা ঢেকে রাখতে?
কে লিখেছে সেই আয়াত,
যেখানে শিশুর কান্না ঢাকতে,
রুদ্ধ করতে তার অমল হায়াত,
চাপা পড়ে পশুর চিৎকার?

কার কাঁধে শোভা পায় সেই ধর্ম
যার সিঁড়ি বেয়ে ওঠে
রক্তমাখা পদধ্বনি? তাতে সম্বিৎ কার?

আমি দেখেছি, তোমাদের বলি,
মসজিদের পাশের অন্ধ গলি,
মন্দিরের ঘরে কেঁদে ওঠা ধর্ষিতা বালিকা,
চার্চের ছাদে ঝোলানো পবিত্র কণ্ঠরক্ষীদের
অপবিত্র নীরবতা। গোপন পঞ্চালিকা।

সেইসব ঘরে কি ঈশ্বর থাকেন?
তোমাদের রাজনীতির দহলিজে?

রন্ধ্রে-রন্ধ্রে,
যেখানে নামাজ ফেলে রাখা হয় বন্দুকের নীচে,
আর প্রার্থনার ঘ্রাণ মিশে যায়
পেট্রোলবোমার গন্ধে?

আমি চাই না আর কোনো রক্তপ্রসাদ,
চাই না আর বিশেষ
ঈশ্বরের নামে পাঁজরের গহ্বরে পেরেক। প্রবাদ।

তোমাদের ভণিতার যে দেবতা মানুষ চায় রক্তমাখা
তাঁর প্রয়োজন শেষ।

আজ আমার ঈশ্বর ক্ষুধার্তের প্লেট ধুয়ে,
শিশুর চপেটাঘাত সয়ে, অব্দে অব্দে,
একটি ছেঁড়া চাদরের নীচে শুয়ে পড়েন নিঃশব্দে।

তাঁকে আমি বলি:
থাকো। আসতে হবে না আর উপাসনার মহলে।

আমরা জানি, ইটের-কাঠের ওসব দালান কার দখলে;
আমরা জানি, তুমি এসেছো এই সর্বনাশে

পথঘাট, রক্ত, আর প্রতিবাদের জলপাই-চাষে।

Subscribe
Notify of
guest
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
ফারজানা
ফারজানা
10 months ago

অনবদ্য প্রতিবাদ

আরও পড়ুন

error: Content is protected !!
1
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x