বর্ণালী বসু
“হে অপ্রতিম,প্রমাদ গণেছি আজ..
সন্তপ্তচিত্তে এই স্তূপমূলে
এনেছি এ শূন্য দীপদান..”
তথাগত নিরুত্তর।
পলক নিমীলন
থাকে অব্যাহত।
কিছুক্ষণ।
নীরবতা বিদ্ধ করে
দীর্ণ করে ,
একটি মাত্র পল
সুদীর্ঘ,অপ্রমেয়
মনে হয়।
হঠাৎ শ্রবণ সচকিত,
গম্ভীর সম্ভাষণে
“সুপ্রিয়,
আধারের ইন্ধনবিন্দু
নিঃশেষে
করেছ লেহন বৎস,
তাই নির্বাপিতপ্রায়
প্রদীপ্ত সে চেতনাবহ্নি..
ক্ষেত্রসম্ভব
সকলই বিনষ্ট
করেছ ভেদে,
অপর ধর্মের
প্রতি তীব্র বিদ্বেষে।
শ্রদ্ধা ছিল বীজ তার,
তপোতেজ নয়,প্রজ্ঞা
বারিবিন্দুসম
ঝরেছে
শীর্ণ শুষ্ক বক্ষে
প্রেম হয়ে
সমপ্রাণতা বয়ে।
নম্রতা ছিলনা
দানে,গ্ৰহণে তোমার
গৈরিক অংশুক আজ
শীল,মৈত্রী,সত্য
হ’তে বহু দূরে থেকে
লালন করেছে
হিংসা।
সমগ্ৰ আর্যাবর্ত
ব্যেপে হোম হুতাশন
দগ্ধ করেছে মাটি।
তুমি সেই বিক্ষত
ভারত,
লোভের সুরতক্রিয়া
করে বলাৎকার
আজ,কাল,প্রতি
অনুপলে।
হে প্রমত্তচিত্ত,
স্তব্ধ হও ক্ষণকাল।
তারপরে এসো স্তূপমূলে।
এসো বৎস,আছি অপেক্ষায়
শান্ত চিত্তে জ্বালো দীপ
মানবহৃদয় উপকূলে।”